পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ঘুমের বেশি প্রয়োজন কেন? ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষণায় এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ক্লান্তি মেটাতে এবং শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম সকলের জন্যই সমানভাবে জরুরি। তবে আমাদের চারপাশের বাস্তব ছবিটা ঠিক কেমন? সকালের অ্যালার্ম বাজার বহু আগেই অধিকাংশ ঘরের মহিলাদের ঘুম ভেঙে যায়। সংসার সামলানো, বাচ্চাদের টিফিন ও স্কুল সামলানো, আর তার সঙ্গে অফিস বা অন্যান্য কাজের তাড়া—সব মিলিয়ে কাকভোরে ঘুম থেকে ওঠাটা যেন তাঁদের জীবনের এক বাঁধা ধরা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজারো কাজের চাপে অনেক নারীই চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো পর্যাপ্ত সময় শুয়ে থাকার সুযোগটুকুও পান না। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে! সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে কিছুটা বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের সমীক্ষা ও অতিরিক্ত ১১ মিনিট
আমেরিকার বিখ্যাত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক (Cleveland Clinic)-এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, একজন পুরুষের তুলনায় একজন নারীর প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১১ মিনিট বেশি ঘুমের দরকার পড়ে। সংখ্যাটা বা সময়টা শুনতে নেহাতই কম বা সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক দিক থেকে এই বাড়তি ১১ মিনিটের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে শুধু বিছানায় কতক্ষণ শুয়ে কাটানো হলো সেটাই শেষ কথা নয়, বরং ঘুমটা কতটা গভীর ও মানসম্মত হলো, সেটাই আসল বিষয়।
কেন মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বেশি?
চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, নারীদের শারীরিক ও মানসিক গঠনগত পার্থক্যের কারণে তাঁদের বাড়তি বিশ্রামের প্রয়োজন হয়:
হরমোনের ওঠানামা: নারীদের জীবনে বিভিন্ন বয়সে নানা শারীরিক পরিবর্তন লেগেই থাকে। পিরিয়ডের দিনগুলি, গর্ভাবস্থা কিংবা মেনোপজ বা বয়সের সঙ্গে আসা হরমোনের ব্যাপক তারতম্যের কারণে রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না কিংবা ঘুম অত্যন্ত পাতলা হয়ে যায়।
মাল্টিটাস্কিং বা একসঙ্গে একাধিক কাজের চাপ: একই সঙ্গে সংসারের রান্নাবান্না, সামলানো থেকে অফিসের কাজ—একাধিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মহিলাদের মস্তিষ্ককে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। সারাদিনের এই ভারী মানসিক ও শারীরিক ধকল সামলে মস্তিষ্ককে ফের সতেজ করতে বাড়তি বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে।
ঘন ঘন ঘুম ভাঙার সমস্যা: রাতেরবেলা ছোট বাচ্চার খেয়াল রাখা, সামান্য টুকিটাকি শব্দ কিংবা ঘরের নানা চিন্তায় অধিকাংশ মহিলারই গভীর বা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম হতে চায় না। মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে গেলে বিছানায় শুয়ে থাকার সময় বাড়লেও আসল বা গাঢ় ঘুমটা আর হয়ে ওঠে না।
ঘুমের ঘাটতি মেটানোর সহজ উপায়
দিনের পর দিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, শরীরে ক্লান্তি জমে যাওয়া এবং সামগ্রিক কাজের ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রাতে ঘুমের মান বা ‘স্লিপ কোয়ালিটি’ ভালো করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন:
রাত বা শোওয়ার সময় ফোন, ট্যাব বা ল্যাপটপ দেখার অভ্যাস পুরোপুরি বদলাতে হবে।
সন্ধ্যার পর থেকে চা, কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
রাতে খুব ভারী বা তেলমশলাযুক্ত খাবার না খেয়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া দরকার।
প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার অভ্যাস করা উচিত।
সংসার ও অফিসের হাজারো দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়াটাও সমানভাবে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুমকে অবহেলা না করে নিজের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করে নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক।