‘আপনি তো বয়সে বড়…’ হালিশহরে মমতাকে তাত্‍পর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

নিজস্ব প্রতিবেদন: রবিবার দুপুরে হালিশহরে নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওতের বাড়িতে যাওয়ার পথে চরম বিক্ষোভ ও হেনস্থার মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল, কাদা ও জুতো ছোড়ার পাশাপাশি ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, “বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।” এই ঘটনার ঠিক পরের দিন, সোমবার হালিশহরে গিয়ে সেই মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই সাংবাদিক বৈঠক করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি।

পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার: বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট স্বীকার করে নেন যে, পুলিশি হেফাজতেই ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের ভূমিকা এবং গাফিলতি স্পষ্ট। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন:

  • পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তি: হালিশহর থানার আইসি-কে ক্লোজ করা হয়েছে এবং মামলার আইও-কে (Investigation Officer) সাসপেন্ড করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সরকারি চাকরি: মৃত বিরজু কেওতের স্ত্রীকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেন্ডেন্ট’ পদে চাকরি দেওয়া হচ্ছে।

  • আর্থিক সাহায্য: মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পরিবারটিকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং মৃতের দুই সন্তানের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ ও কটাক্ষ

হালিশহরে মমতার হেনস্থা এবং তাঁর সফর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উনি জেড প্লাস (Z-Plus) নিরাপত্তা পান, যা আমাদের সরকার আসার পরেও প্রত্যাহার করা হয়নি। উনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। কিন্তু কালকে উনি পুলিশ বা প্রশাসনকে না জানিয়েই হুট করে চলে এসেছিলেন। প্রটোকল না মেনে আসায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।”

অতীতের বাম আমল ও মমতার জুমানার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু আরও বলেন, “প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এমন একটা উদাহরণ দেখাতে পারবেন না, যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রশাসনিক প্রধান ডিজিপিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণ করা কোনো কর্মীর বাড়িতে গেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পর বাড়ির লোক তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। অথচ আজ পরিবারের লোকজন রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা রেখেছে।”

এরপর সরাসরি মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী দলের নয়, রাজ্যের— এটাই শুভেন্দু অধিকারী আপনাকে শিখিয়ে দিয়ে গেল!”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *