মায়ের শোকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে চরম সিদ্ধান্ত! জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেতা

বলিউডের ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ গোবিন্দার অনবদ্য নাচ, দুর্দান্ত কমিক টাইমিং এবং হাসিখুশি মেজাজ বরাবরই দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছে। কিন্তু পর্দার এই হাসিমুখের মানুষটির ব্যক্তিগত জীবন যে নানা গভীর বেদনা ও সংগ্রামের অধ্যায়ে ভরা, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও অন্ধকার সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন অভিনেতা। মায়ের প্রয়াণের পর শোক সহ্য করতে না পেরে কীভাবে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে গিয়েছিলেন, সেই মর্মান্তিক গল্পই শেয়ার করেছেন তিনি।
মায়ের প্রয়াণ ও গোবিন্দার ভেঙে পড়া
গোবিন্দার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিলেন তাঁর মা নির্মলা দেবী। তিনি একাধারে যেমন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন, তেমনই ছিলে অভিনেত্রী। গোবিন্দার কেরিয়ারের সাফল্য এবং জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে মায়ের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে মায়ের মৃত্যু অভিনেতার জীবনে এক বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনে। মাকে হারিয়ে যেন তিনি নিজের অস্তিত্বকেই বিপন্ন বোধ করতে শুরু করেন। শোক তাঁকে এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন।
নর্মদা নদীর জলে আত্মহত্যার চেষ্টা
মাকে হারানোর যন্ত্রণা এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে, মায়ের অস্থি বিসর্জন দিতে গিয়ে নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন অভিনেতা। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে গোবিন্দা জানান, তিনি সোজা নর্মদা নদীর জলে নেমে পড়েন এবং ক্রমশ গভীর জলের দিকে হেঁটে যেতে থাকেন। সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, “যদি আর একটু এগিয়ে যাই, তাহলে হয়তো ওপারেই মাকে আবার কাছে পাব, মায়ের সঙ্গে আমার আবার দেখা হবে!” শোকার্ত মনের তীব্র ঘোরে জীবনের স্বাভাবিক বোধটুকুও তখন তাঁর লোপ পেয়েছিল।
এক অলৌকিক মোড় ও সাধুর আগমন
মৃত্যুর ঠিক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুহূর্তে হঠাৎই ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। নদীর জলে গোবিন্দাকে আরও গভীরে এগিয়ে যেতে দেখে এক সাধু আচমকাই সেখানে এসে উপস্থিত হন। তিনিই অভিনেতাকে জল থেকে টেনে তোলেন এবং বুঝিয়ে সুঝিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন। সেই সাধুর উপস্থিতি ও তাঁর কথাগুলোই গোবিন্দার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কঠিন সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন অভিনেতা। জীবনের সেই কালো অধ্যায় আজও তাঁর মনে গভীর দাগ কেটে রয়েছে।