আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজি বিতর্ক: সমালোচনার মুখে পড়ে অবস্থান বদলালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে করা তাঁরই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ার পর এবার সুর নরম করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। রবিবার তাঁর একটি নতুন বক্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে নেতাজির মৃত্যু নিয়ে তিনি আদতে কোনো ভুল মন্তব্যই করেননি, বরং তাঁর পুরো বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমে সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঠিক কী দাবি করলেন অনন্ত মহারাজ?

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসা নিজের বক্তব্যে অনন্ত মহারাজ পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “নেতাজির মৃত্যু সম্পর্কে আমি কিছুই বলিনি। সংবাদমাধ্যম পাগলের প্রলাপ বকছে।” এরপর নিজের পূর্বের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, মহারাজার ভাই ইন্দ্রজিৎ নারায়ণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মার দিকে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ইন্দ্রজিতের নারায়ণী সেনা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ ফিরে এলেও নেতাজি ফিরে আসেননি। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যদি ঘুরে না আসে, তাহলে কী বলা যায়? তবে নেতাজির মৃত্যু হয়েছে— এটা আমি বলিনি।” একই সঙ্গে তিনি এও স্বীকার করেন যে, আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন প্রসঙ্গে তিনি আগে বলেছিলেন, “নেতাজির বাপের তাগদ আছে নাকি আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে।”

ঠিক কী ছিল পূর্বের বিতর্ক?

এর আগে প্রায় দু’সপ্তাহ আগে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজ প্রসঙ্গে অনন্ত মহারাজের একটি মন্তব্য ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আজাদ হিন্দ ফৌজ নেতাজির বাপের সম্পত্তি?” পাশাপাশি তাঁর দাবি ছিল, জার্মানিরা ব্রিটিশদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে তা নেতাজিকে দিয়েছিল এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বন্দুক ধরার কারণে নেতাজিকে নাকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্য দল সমর্থন করে না।

তবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এবার নিজের বক্তব্যের সাফাই গেয়ে নেতাজির মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করার কথাই অস্বীকার করলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর এই নতুন ও খণ্ডিত অবস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *