বিজেপির জোটসঙ্গী হয়ে প্রশান্ত কিশোরের রণকৌশল তৈরি! চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কী বলল কংগ্রেস?

বিহারের রাজনৈতিক পর্বের পর এবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। এনসিপি (NCP)-র অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের টানা প্রায় ছয় ঘণ্টার এক দীর্ঘ বৈঠককে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই বৈঠকে প্রশান্ত কিশোরকে দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বা কৌশলবিদ হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে—এমন জল্পনা সামনে আসার পরই খোদ এনসিপি শিবিরের অন্দরেই তীব্র অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মুম্বইয়ে গোপন বৈঠক ও জল্পনা: মুম্বইয়ে এনসিপি নেত্রী তথা দলের জাতীয় সভাপতি সুনেত্রা পাওয়ার এবং পার্থ পাওয়ারের সঙ্গে প্রশান্ত কিশোরের এই ম্যারাথন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় দেবগিরি বাসভবনে। সূত্রের খবর, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং মহারাষ্ট্রে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার কৌশল নিয়েই মূলত এই আলোচনা হয়েছিল। এই বৈঠকের পরই পিকে-র এনসিপিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। এমনকি পিকে নাকি দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুনীল টাটকরেকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন—এমন গুঞ্জনও রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
কংগ্রেসের কড়া আক্রমণ: প্রশান্ত কিশোরের এই সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী কংগ্রেস। কংগ্রেস মুখপাত্র অতুল লোনধে কটাক্ষ করে বলেছেন, “এটি এক অদ্ভুত ঘটনা! একদিকে যিনি নিজেকে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেন, অন্যদিকে তিনিই আবার মহারাষ্ট্রে গিয়ে বিজেপির মিত্র দলের হয়ে জয়ের কৌশল তৈরি করছেন! প্রশান্ত কিশোরের আসল রাজনৈতিক ভূমিকা ও চরিত্র ঠিক কী, সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”
বিজেপি ও এনসিপি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া: কংগ্রেসের এই আক্রমণের মুখে বিজেপি বিষয়টিকে সম্পূর্ণভাবে এনসিপি-র অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এড়িয়ে গেছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নিজেদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতা বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার এনসিপির রয়েছে এবং এর ফলে মহাযুতি (Mahayuti) জোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।
অন্যদিকে, এনসিপি-র অন্দরে অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে আসলেও রাজ্য সভাপতি সুনীল টাটকরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা এনডিএ (NDA)-র অংশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বেই কাজ করছি। প্রশান্ত কিশোর আমাদের প্রচারে যোগ দিচ্ছেন বা অফিশিয়ালি যুক্ত হচ্ছেন—এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা সমীক্ষার চেয়ে মাঠের কাজ ও জনসম্পর্কের ওপর বেশি বিশ্বাসী।”
সব মিলিয়ে, প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে অজিত পাওয়ারের দল এবং মহাজোটের অন্দরে যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় সমীকরণের জন্ম দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।