পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে কি ফের এনডিএ-তে ফিরছে আকালি দল? এসএডি প্রধানের নতুন রাজনৈতিক চালে শোরগোল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শিরোমণি আকালি দল (SAD)-এর সভাপতি সুখবীর সিং বাদলের (Sukhbir Singh Badal) সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই পাঞ্জাবের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে। মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক একদিন পরই এসএডি সভাপতি দেশের নারীদের জন্য সংরক্ষণ বিলের অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং একটি ন্যায্য ও নিরপেক্ষ সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) প্রক্রিয়ার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দলীয় অবস্থান বদল এবং কেন্দ্রের প্রতি নরম মনোভাব আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে পুরোনো বিজেপি-এসএডি জোটের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চণ্ডীগড়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ও এসএডি-র অবস্থান: সম্প্রতি চণ্ডীগড়ে শিরোমণি আকালি দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের পরই সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (প্রাক্তন টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্ট করে সুখবীর সিং বাদল দলের নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান যে, তাঁদের দল শিখ গুরুদের শিক্ষা থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করে, যারা সর্বদা নারীর মর্যাদা, সমতা এবং সমান অধিকারের পক্ষে ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগেই শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি (SGPC) তাদের সংস্থায় নারীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুখবীর বাদলের প্রধান দাবিগুলি কী কী?
-
নারী সংরক্ষণ বিলের দ্রুত রূপায়ণ: সংসদে পাশ হওয়া নারী সংরক্ষণ বিল অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানিয়েছে আকালি দল।
-
সুষ্ঠু সীমানা পুনর্নির্ধারণ: দেশের সমস্ত রাজ্যের জন্য সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও ন্যায্য সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়ার দাবি তুলেছে এসএডি।
-
আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব: সংসদের কাছে দলটির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন দেশের সমস্ত রাজ্যের জন্য লোকসভা ও বিধানসভার আসন সংখ্যা অভিন্নভাবে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।
জোট জল্পনা ও পাঞ্জাবের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: কৃষি আইন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অতীতে বিজেপি-র সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কচ্ছেদ করেছিল শিরোমণি আকালি দল। তবে পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (AAP)-র ক্রমবর্ধিষ্ণু রাজনৈতিক প্রভাব এবং নিজেদের জনভিত্তি ফিরে পেতে দুই পুরনো মিত্রের মধ্যে ফের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সুখবীর বাদলের বৈঠক এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রের নীতি ও বিলগুলির প্রতি এসএডি-র এমন সমর্থন সেই জল্পনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই দল ফের হাত মেলায় কি না, এখন সেটাই দেখার প্রধান আকর্ষণ।