ফলাফল প্রকাশে বড় বাধা! ৩০টিরও বেশি কলেজের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় আটকে গেল AKTU-র সেমিস্টার রেজাল্ট

ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির (AKTU) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জোড় সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের আসল কারণ প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্যের ৩০টিরও বেশি ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রফেশনাল কলেজ ব্যবহারিক (Practical) পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা না দেওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
কী কারণে আটকে গেল ফলাফল?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা সংক্রান্ত জিও-ট্যাগ করা ছবি, প্রজেক্টের নথি, উত্তরপত্র এবং অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র জমা দেয়নি ওই কলেজগুলি। নথিপত্রের অভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে থমকে গেছে পুরো রেজাল্ট তৈরির প্রক্রিয়া। সর্বাধিক সংখ্যক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে বি.ফার্মা (B.Pharma) কলেজগুলির বিরুদ্ধে।
নিয়ম অনুযায়ী, গত ৭ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত চলা জোড় সেমিস্টার পরীক্ষার প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা জুনের মধ্যেই শেষ করে অনলাইনে নম্বর আপলোড করার কথা ছিল। কিন্তু বহু কলেজ নির্ধারিত সময়ে তা করতে ব্যর্থ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে তলব করলেও তারা প্রয়োজনীয় রেকর্ড জমা দিতে পারেনি।
বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের, হবে পুনর্মপরীক্ষা
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতে ব্যবহারিক পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই মূল ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক দীপক নাগারিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। এই প্রক্রিয়ার পর যে সমস্ত কলেজ অবহেলায় যুক্ত প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়মমাফিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে আসছে ‘ফেসলেস সিস্টেম’
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে AKTU। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ‘ফেসলেস স্টুডেন্ট সিস্টেম’ (Faceless Student System) চালু করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। এই ব্যবস্থা চালু হলে ছোটখাটো অভিযোগ বা সমস্যার জন্য আর ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর দপ্তরে দৌড়াতে হবে না।
ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করা যাবে, যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পৌঁছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে রাজ্যের প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবেন।