মাঝরাতে রাস্তার মাঝে বিলাসবহুল গাড়ি থামিয়ে কেক কাটা! এয়ারগান থেকে গুলি চালিয়ে মুম্বইয়ে গ্রেফতার ১০ যুবক

জন্মদিন উদযাপনের নামে মাঝরাতে বেপরোয়া কায়দায় জনজীবন বিপর্যস্ত করার অভিযোগ উঠল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের বোরিভালিতে প্রকাশ্য রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে কেক কাটা, উচ্চস্বরে হইচই এবং এরপর এয়ারগান থেকে ছররা ছুড়ে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি গত ৫ অগস্ট রাত প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ মুম্বইয়ের বোরিভালির গোরাই-২ এলাকার ঘরকুল কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সামনে ঘটে।
তদন্তে সামনে এসেছে যে, একটি কালো রঙের ইনোভা গাড়ি একেবারে রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছিল। গাড়ির বনেটের ওপর সাজানো ছিল একাধিক কেক। আর তার পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল আরও বেশ কয়েকটি গাড়ি। রাস্তায় এহেন বিশৃঙ্খল কাণ্ডকারখানা ও উচ্চস্বরে চেঁচামেচিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুম ভেঙে যায় এবং এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়ায়।
যানজট এবং এয়ারগান দিয়ে গুলিচালনা
রাস্তার মাঝে গাড়িগুলো এভাবে আড়েবহরে দাঁড়িয়ে থাকায় ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হলেও উদযাপনে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।
তবে পরিস্থিতি কেবল হইচইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই পার্টিতে যতীন শর্মা নামে এক যুবক একটি ‘বেবি এয়ারগান’ নিয়ে হাজির হন। পরবর্তীতে সেই অস্ত্রটি দিয়ে প্রকাশ্যে ছররা ছোড়েন বিজেশ উপাধ্যায় নামক আরেক অভিযুক্ত, যা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তোলে।
পুলিশের அதிர্তা অভিযান ও গ্রেফতারি
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করে। তল্লাশি চালিয়ে এই ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে আকাশ গুপ্ত, যতীন শর্মা এবং বিজেশ উপাধ্যায়ের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বাকি অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করেছে পুলিশ।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), মোটর ভেহিকলস আইন, মহারাষ্ট্র পুলিশ আইন এবং ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের বিভিন্ন কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তকারী অফিসারদের মতে, প্রকাশ্য জনবহুল রাস্তায় এই ধরনের বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ কেবল জনশৃঙ্খলাই ভঙ্গ করেনি, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। এয়ারগানটি কোথা থেকে এবং কীভাবে সেখানে আনা হয়েছিল এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।