“মোদীজির ব্রেকফাস্টে নিমন্ত্রিত শতাব্দী, সুদীপ, রচনা!”-প্রধানমন্ত্রী কী পরামর্শ দিলেন বাংলার সাংসদদের?

শুক্রবার সকালে দিল্লির সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রাতরাশ বা ব্রেকফাস্ট বৈঠকে যোগ দিলেন ৪৫ জন সাংসদ। এই বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই (NCPI) দলের সংসদীয় প্রতিনিধিরা। বৈঠক সেরে বেরিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায় ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা বেজায় আপ্লুত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঠিক কী কথা হয়েছে এবং কী কী পরামর্শ তাঁরা পেয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের সামনে সেকথা বিস্তারিত তুলে ধরেন তাঁরা।

কী পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

বৈঠক শেষে এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক কিছু বার্তা দিয়েছেন। সুদীপের কথায়, “সকলে পরামর্শ দিয়েছেন যে, ৪০ বছর বয়স অতিক্রম করলেই যেন নিয়মিত মেডিক্যাল চেক-আপ করানো হয়। পাশাপাশি তিনি আমাদের কাছে জানতে চান, বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে কারা কারা নিয়মিত যোগা বা যোগাসন করেন এবং হাত তুলতে বলেন।” মিনিট পঁয়তাল্লিশের এই বৈঠকে কেবল স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং রাজ্যের সার্বিক উন্নতির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পূর্ব ভারতের উন্নয়নের স্বার্থে কী কী পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা বাংলার সাংসদদের বিশদে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সুদীপ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সেই স্বপ্ন পূরণে তাঁরা সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবেন।

ব্রেকফাস্টে খাওয়া-দাওয়া ও অন্য প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে প্রাতরাশ সেরে চরম উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী তথা সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি জানান, “আমরা একসঙ্গে কীভাবে কাজ করব এবং কীভাবে সামনের দিনে এগোব, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উনি সকলের সঙ্গে কথা বলেছেন, চা খেয়েছেন, গল্প করেছেন। প্রত্যেকের কাছে জানতে চেয়েছেন আমরা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় উন্নয়নের জন্য কী ভাবছি।” খাওয়া-দাওয়া প্রসঙ্গে শতাব্দী বলেন, প্রাতরাশে সমস্ত সুস্বাদু নিরামিষ খাবার থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নিজে কিছু খাননি, কেবল চা পান করেছেন। বাকিরা সেখানে পায়েস ও অন্যান্য সুস্বাদু পদ উপভোগ করেন। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বৈঠকে যোগ দিয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে জানান, জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি মুহূর্ত কাটল আজ।

৩ ‘বেসুরো’ সাংসদও কি উপস্থিত ছিলেন?

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে চর্চায় থাকা মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ—খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান এবং ইউসূফ পাঠান, যাঁরা বর্তমানে এনসিপিআই জোটে রয়েছেন, তাঁরা এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাতরাশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। পরে সাংসদ শতাব্দী রায় নিশ্চিত করেন যে, মুর্শিদাবাদের ওই তিন ‘বেসুরো’ সাংসদও এদিনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে, দিল্লির এই ব্রেকফাস্ট মিট বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *