‘আপনি কি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য আমার বাবা হবেন?’ স্কুলের ফাদার্স ডে-তে খুদের আকুতিতে ভিজল নেটিজেনদের চোখ!

সম্প্রতি মাঝরাতে সাত বছরের এক শিশুর চা খাওয়ার জন্য র্যাপিডো বুক করার ভিডিও নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলো আরও একটি অত্যন্ত আবেগঘন ভিডিও। একজন অচেনা বাইক চালক এবং এক খুদে স্কুলপড়ুয়ার কথোপকথনের এই দৃশ্য এই মুহূর্তে নেটদুনিয়ার প্রতিটি মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। র্যাপিডো চালকের এই মানবিকতা ও উদারতা যেমন একদিকে প্রশংসায় ভাসছে, অন্যদিকে সমাজের এক গভীর মানসিক বাস্তবতার ছবিও সামনে এনেছে।
ভাইরাল ভিডিওর মর্মান্তিক ব্যাকগ্রাউন্ড
ভাইরাল হওয়া ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, স্কুল ইউনিফর্ম পরে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি ছোট শিশু। সে তার স্কুলের কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই মূলত র্যাপিডো বুক করেছিল। বাইক নিয়ে চালক নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর খুদে শিক্ষার্থীটি এমন এক আবদার করে বসে, যা শুনে চালক নিজেই সম্পূর্ণ চমকে যান।
চালক শিশুটিকে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি একা যাবে?” উত্তরে বাচ্চাটি যা বলে, তা সত্যিই স্তম্ভিত করার মতো। নিষ্পাপ শিশুটি আকুতি জানিয়ে বলে, “না, আমাকে কোথাও যেতে হবে না। কিন্তু আপনি কি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য আমার বাবা হবেন?”
প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে চালক বলেন, “বাবা হতে হবে! তোমার বাবা-মা তো এইখানেই আছেন।” তখন বাচ্চাটির মন ভীষণ খারাপ হয়ে যায় এবং সে বলে, “আজ আমাদের স্কুলে ‘ফাদার্স ডে’ পালিত হচ্ছে। আমার বাবা কাজে ব্যস্ত, তিনি কখনওই স্কুলে আসেন না। যদি আমার বন্ধুরা জানতে পারে যে আমার বাবা আসেনি, তবে সবাই আমার পিছনে লাগবে, ক্ষ্যাপাবে!”
চালকের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও শিশুর নিষ্পাপ যুক্তি
শিশুর মুখে এই করুণ সত্য শোনার পর রাইডারের মন গলে যায়। তবে কিছুটা ইতস্তত করে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমি না হয় তোমার বাবা হলাম, কিন্তু কেউ যদি আমাকে চিনে ফেলে?” তখন বাচ্চাটি খুব নিষ্পাপভাবে উত্তর দেয়, “ম্যাম আপনাকে যা-ই জিজ্ঞেস করুন না কেন, আপনি শুধু একটা মিষ্টি হাসি দেবেন, বাকিটা আমি সামলে নেব।”
একটু দূরেই শিশুটির মা দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। চালক শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে যেতে বললে বাচ্চাটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “আজ স্কুলে বাবার উপস্থিতি দরকার, মাকে নিয়ে গেলে তো হবে না…”
বাচ্চাটির এই আবেগপূর্ণ কথা এবং তার মনের গভীরের কষ্ট উপলব্ধি করে চালক তাকে আর ফেরাতে পারেননি। শিশুটিকে বাইকে বসিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় সেই চালক স্বগতোক্তি করেন, “আজ রাইডার হওয়ার পাশাপাশি আমাকে কারও বাবাও হতে হচ্ছে। না জানি আজকে আর কী কী দেখতে হবে…”
সমাজের এক কঠিন সত্যের প্রতিচ্ছবি
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই হু-হু করে ভাইরাল হয়ে যায়। অজস্র মানুষ কমেন্ট সেকশনে রাইডারের এই অসামান্য মানবিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি নিছকই একটি মিষ্টি বা ভাইরাল ক্লিপ নয়— এটি সমাজের এক কঠিন ও বেদনাবিধূর বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে। ব্যস্ততার যুগে বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি এবং সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হওয়ার ভয় একটি ছোট শিশুর মনে কতটা মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, এই ঘটনা তারই স্পষ্ট প্রমাণ। অচেনা এক রাইডারের সঙ্গে একরত্তির এই আত্মিক বন্ধনের গল্প ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে।