ঐতিহাসিক মেয়রের বাংলো সংস্কার নিয়ে তুলকালাম মুম্বইতে! বিরোধীদের চাপে শেষ পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়র

মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকার ঐতিহাসিক মেয়রের বাংলো এবং তার সংলগ্ন কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সংস্কার কাজের জন্য জারি করা টেন্ডারকে ‘জনগণের অর্থের অপচয়’ বলে তোপ দাগা হয়। এই রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে ওই বিতর্কিত টেন্ডারটি অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দেন, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

বিরোধীদের আপত্তি ও আদিত্য ঠাকরের অভিযোগ
বীরমাতা জিজাবাই ভোসলে উদ্যান কমপ্লেক্সে অবস্থিত মেয়র বাংলোটি একটি সুরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী (হেরিটেজ) ভবন। ২০২২ সাল থেকে এই ভবনটি খালি ছিল। বর্তমান মেয়র ঋতু তাওড়ে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায়, প্রয়োজনীয় হেরিটেজ কমিটির অনুমোদন নিয়ে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা (৩৫ মিলিয়ন টাকা) ব্যয়ে এর প্রাথমিক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলোটির চারপাশে নতুন করে পরিকাঠামো উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর মেরামত, নিকাশী ব্যবস্থা এবং সাউন্ডপ্রুফিংয়ের মতো কাজের জন্য কোটি কোটি টাকার নতুন টেন্ডার জারি করা হয়। আর এখানেই আপত্তি তোলে বিরোধীরা। শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে এবং বিএমসি-র বিরোধীদলীয় নেত্রী কিশোরী পেডনেকার এই ইস্যুতে প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করে জানান যে, এই ধরনের বিলাসবহুল কাজের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং জনগণের অর্থের অপচয় মাত্র।

মেয়রের সাফাই ও টেন্ডার বাতিল
চারপাশে বিতর্ক দানা বাঁধলে মেয়র ঋতু তাওড়ে স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি নিজে থেকে কোনো অতিরিক্ত নির্মাণ বা বিলাসবহুল উন্নয়ন কাজের জন্য কোনো অনুরোধ করেননি। তাঁর দাবি, এই টেন্ডারটি চিড়িয়াখানা প্রশাসনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ারই একটি অংশ ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য এটিকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টেন্ডারটি বাতিল করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে ঘাটকোপারের কর্পোরেটর তথা বিজেপি মেয়র ঋতু তাওড়ে সপরিবারে এই ঐতিহাসিক ভবনেই বসবাস করছেন।

বাংলোটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব
নির্মাণকাল: ১৯৩১ সালে সেগুন কাঠ এবং টালির ছাদ দিয়ে নির্মিত হয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি।

সংরক্ষণ: মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত এই বাড়িটি বিশেষ উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা (Development Control Regulations) দ্বারা সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত।

রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে আপাতত এই সংস্কার টেন্ডার বাতিল হলেও, মুম্বইয়ের এই ঐতিহাসিক মেয়র বাংলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে চর্চা থামছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *