“BJP-র দেদার তোলাবাজি!”-এক ধাক্কায় কতজনকে সাসপেন্ড করল গেরুয়া শিবির?

২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তোলাবাজি, দুর্নীতি ও কাটমানির রাজনীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন। সেই আস্থার ওপর ভর করেই গত মে মাসের ৪ তারিখ রাজ্যক্ষমতা দখল করে বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সরকারের শপথে মাস কয়েকের মধ্যেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করে। আর এই অস্বস্তিকর তথ্য দলের শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর পরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য নেতৃত্ব।

১. শমীক ভট্টাচার্যের কড়া বার্তা ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

দলের কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ কানে আসার পর থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বারবার দলের কর্মীদের সতর্ক করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিজেপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।

নেতাকর্মীদের সতর্ক করতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, “পৃথিবীতে সমস্ত একদলীয় একাধিপত্যের পতন হয়। আজ আমরা ২০৭, এই শরীরী ভাষা নিয়ে যদি আমাদের দলের কেউ নেমে পড়ে, তাহলে পরিণতি কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। যেভাবে ডিম থেরাপি শুরু হয়েছে, সেই ডিম ঘুরে অন্যদিকেও পড়তে পারে। ডিমের অভিমুখ বদলে যেতে বেশিক্ষণ সময় লাগবে না।” এছাড়া দলের কিছু নেতার ‘তৃণমূলীকরণ’ বা পুরোনো সংস্কৃতি ধরে রাখার প্রবণতা নিয়েও কড়া ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

২. ডেডলাইন শেষ হতেই কড়া অ্যাকশন

দলের একাংশ যে নিজেদের শুধরে না নিয়ে নাম ভাঙিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা প্রকাশ্যে এনে শমীক ভট্টাচার্য আগেই একটি নির্দিষ্ট ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, বিচ্যুতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সরকার যেমন প্রশাসনিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তেমনই দলও সাংগঠনিক স্তরে বড় ব্যবস্থার পথে হাঁটছে।

৩. কজনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো?

বিজেপি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দলের অন্দরে শুদ্ধিকরণ অভিযান শুরু করে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।

  • এর মধ্যে ১০২ জনের বিষয়ে দল প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

  • সন্তোষজনক উত্তর দেওয়ায় ৮০ জন কর্মীকে শোকজের চিঠি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

  • কিন্তু সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সদুত্তর না মেলায় ইতিমধ্যেই ২২ জন কর্মীকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বজায় রাখতে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের অন্দরে গুঞ্জন রয়েছে, এখানেই শেষ নয়—আগামী দিনে আরও কড়া পদক্ষেপ বা বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে গেরুয়া শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *