আয়কর ফাঁকির দিন শেষ! কম্পিউটার ডেটা এবং এআই-এর সাহায্য নিয়ে ভুয়া কর ছাড়ের বড় জালিয়াতি ধরল অর্থ মন্ত্রক

আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত কম্পিউটার ডেটার নিখুঁত ব্যবহারে বড়সড় সাফল্য পেল আয়কর বিভাগ। সাম্প্রতিক তদন্তে এমন অসংখ্য ঘটনা ও জালিয়াতি ধরা পড়েছে, যেখানে কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতারণামূলকভাবে ভুল তথ্য দিয়ে কর ছাড় (Tax Exemption) পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে লোকসভায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে এমন বহু ব্যক্তি, সংস্থা এবং কিছু মধ্যস্থতাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা এই মিথ্যা কর দাবি দাখিল করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছিল।

কীভাবে ডেটা অ্যানালিসিসের মাধ্যমে ধরা পড়ছে জালিয়াতি?
কর ফাঁকি বা জালিয়াতি রোধ করতে আয়কর বিভাগ এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর ভরসা রাখছে। এই স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সিস্টেমটি বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া ডেটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে:

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেনের রেকর্ড

জিএসটি (GST) তথ্য

টিডিএস (TDS) ও টিসিএস (TCS) রিটার্ন

এবং বড় সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট ক্রয়ের হিসাব

এই সমস্ত বিশাল তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা একত্রিত করে সিস্টেমটি সহজেই বিশ্লেষণ করে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে কোনো অতিরিক্ত বা ভুয়া কর ছাড় দাবি করেছেন কিনা। কোথাও কোনো অসঙ্গতি বা গরমিল ধরা পড়লেই শুরু হচ্ছে কড়া তদন্ত।

ভুল সংশোধনের সুযোগ এবং ‘সক্ষম নাজ’ প্রচারাভিযান
সাধারণ করদাতারা যাতে অজান্তে বা ভুলবশত কোনো ভুল করে না ফেলেন, তার জন্য আয়কর বিভাগ ‘সক্ষম নাজ’ (Saksham Naaj) নামক একটি বিশেষ প্রচারাভিযান চালু করেছে। এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণকে তাঁদের কর রিটার্ন বা ITR-এর যেকোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল দ্রুত সংশোধন করতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি, সঠিক তথ্য দিয়ে সময়মতো নির্ভুল কর পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও সচেতন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ভুয়া দাবিদার ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
যে সমস্ত করদাতা বা মধ্যস্থতাকারীরা জেনেশুনে ভুয়া কর দাবির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এবার একাধিক তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আয়কর বিভাগ। এই তদন্তে এমন কিছু অসাধু কর রিটার্ন প্রস্তুতকারী এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকেও (CA) চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা অসৎ উপায়ে মিথ্যা কর দাবি দাখিল করাতে গ্রাহকদের সাহায্য করতেন।

এই ধরনের অপরাধমূলক ক্ষেত্রগুলিতে বর্তমানে—

ই-যাচাই (E-verification)

সার্ভে বা জরিপ

তল্লাশি অভিযান (Search)

পুনঃতদন্ত ও ভারী জরিমানা

এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরও বেশি স্বচ্ছ করে তুলতে এবং অনৈতিক উপায়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা চিরতরে বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *