মুঠো মুঠো চুল ঝরে পড়ায় চিন্তিত? প্রোটিনের অভাবেই কি মাথার ত্বক খালি হয়ে যাচ্ছে? জানুন আসল সত্য

আজকাল চুল পড়া বা হেয়ার ফল (Hair Fall) যেন ঘরে ঘরে এক অতি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মানসিক চাপ, কর্মব্যস্ততা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই আবার বিশ্বাস করেন যে শরীরের সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্যের এক গভীর যোগ রয়েছে। তাই প্রোটিনের অভাবের সঙ্গে চুল ঝরার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, এবং স্বাস্থ্যকর ও ঘন চুল বজায় রাখতে সঠিক পুষ্টির ভূমিকা ঠিক কতটা—তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

চুলের সুস্বাস্থ্য কেবল দামি শ্যাম্পু বা হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর করে না। যদি আপনার চুল ক্রমাগত পড়তে থাকে, তবে এর অন্তর্নিহিত বা মূল কারণটি খুঁজে বের করা সবার আগে দরকার। সঠিক কারণ শনাক্ত করা গেলে সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রোটিনের অভাবে সত্যিই চুল পড়ে কি না, এর অন্যান্য লক্ষণগুলি কী এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যিক।

প্রোটিনের অভাবে কি চুল পড়তে পারে?
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমাদের চুল প্রধানত ‘কেরাটিন’ (Keratin) নামক একটি বিশেষ প্রোটিন দিয়ে তৈরি। শরীরে যদি দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিনের অভাব দেখা দেয়, তবে শরীর তখন চুল বা ত্বকের চেয়ে শরীরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গগুলির পুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অনেকের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, চুল পড়ার কারণ সবসময় যে কেবল প্রোটিনের অভাবই হবে, এমনটা নয়। মানসিক উদ্বেগ, হরমোনের পরিবর্তন, শরীরে আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণেও চুল পড়তে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যা চলতে থাকলে কারণ নির্ণয়ের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রোটিনের অভাবের লক্ষণগুলি কী কী?
শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল পড়া ছাড়াও আরও বেশ কিছু উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে:

অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং পেশী দুর্বলতা।

শরীরে সামান্য ফোলাভাব এবং কেটে গেলে বা ক্ষত শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগা।

ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।

নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া বা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া।

তবে মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলি সবসময় যে শুধুমাত্র প্রোটিনের অভাবেই হবে, তা নয়। যদি এই উপসর্গগুলি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে পাতে রাখবেন কোন খাবারগুলি?
শরীরের প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে এবং চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা আবশ্যক। আপনি খেতে পারেন:

বিভিন্ন ধরনের ডাল (যেমন মুসুর ডাল, মুগ ডাল), রাজমা ও ছোলা।

সয়া চাঙ্ক, পনির, দুধ এবং টক দই।

ডিম, মাছ এবং মুরগির মাংস (Chicken)।

নানা ধরনের বাদাম (Almonds, Walnuts) এবং বীজ জাতীয় খাবার (Chia seeds, Pumpkin seeds)।

প্রতিটি খাবারে প্রোটিনসমৃদ্ধ কিছু রাখার চেষ্টা করুন। তবে শুধু প্রোটিন একা নয়, শরীরের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য এবং চুল মজবুত রাখতে অন্যান্য ভিটামিন ও খনিজের দিকেও সমান নজর দেওয়া দরকার।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
যদি দেখেন যে বেশ কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একটানা অতিরিক্ত চুল ঝরে চলেছে, মাথায় টাক বা ফাঁকা জায়গা (Bald patches) দেখা দিচ্ছে, কিংবা হঠাৎ করেই অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হয়েছে—তবে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এর পাশাপাশি যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন হ্রাস বা অন্য কোনো শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করেন, তবে অবহেলা না করে ডাক্তার দেখাতে হবে। রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ আগেভাগে নির্ণয় করা গেলে চুল পড়ার সমস্যা রোধ করা অনেকটাই সহজ হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *