‘ক্যাশ ফর জব’ মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ! সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন অভিষেকের পিএ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে বড় স্বস্তি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। আপাতত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, সুমিত রায়কে তদন্তে যোগ দিয়ে পুলিশকে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে হবে। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে।

১. সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল-জবাব

এ দিন সুমিত রায়ের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ জানান, অভিযোগটি ‘ক্যাশ ফর জব স্ক্যাম’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তিনি সুরক্ষা পেলে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটির শুনানির জন্য শুক্রবার দিন নির্ধারণের আর্জি জানান, কারণ তিনি এখনও সব নথি দেখার সময় পাননি। পাল্টা সুমিতের আইনজীবী বলেন, ‘ঘটনাটি ২০২১ সালের, অথচ এফআইআর করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। একটি সামান্য পিএ-র বিষয়ের জন্য সলিসিটর জেনারেলকে সওয়াল করতে হচ্ছে?’ তুষার মেহতা জানান, তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন, তবে নথিপত্রগুলি খতিয়ে দেখার জন্য কোর্টের এক দিন সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি, মেহতা আদালতে অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে গেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাধা দিয়েছিলেন। বিচারপতি বাগচী তখন জানতে চান বিষয়টি “হিমের পাহাড়ের চূড়া” (Tip of the iceberg) কি না? জবাবে মেহতা জানান, এটি অত্যন্ত প্রভাবশালী চক্র এবং তাঁদের সমস্ত তথ্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হোক।

২. সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ?

সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়েছে:

  • শালবনি ও ডেবরা মামলা: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি বিক্রি এবং ডেবরায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। শালবনি থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই সুমিত বেপাত্তা ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

  • তোলাবাজির অভিযোগ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ‘সেবাশ্রয়’ চলাকালীন এক রিসর্ট মালিককে চাপ দিয়ে ঘর আটকে রাখার অভিযোগে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে হানাও দিয়েছিল।

৩. আইনি লড়াইয়ের বর্তমান পরিস্থিতি

ডেবরার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আর্জি মঞ্জুর হলেও, শালবনির কেসে তা হয়নি। এরপর আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। অবশেষে সেই জমি মামলাতেই এ দিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন সুমিত রায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *