মালদায় টাকার পাহাড়! ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে মোটরবাইক থেকে উদ্ধার প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা ও ব্রাউন সুগার

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক জায়গায় নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বীরভূম বা দুর্গাপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মালদার গাজোল থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও মাদক। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি বাজেয়াপ্ত বা আটক করা মোটরবাইক থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল গাজোলে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত দুই যুবকের নাম সিদ্ধার্থ মণ্ডল ও কিশোর মণ্ডল। তাদের বাড়ি যথাক্রমে মালদার কালিয়াচক এবং বৈষ্ণবনগর এলাকায়।
বুধবার সকালে ওই দুই যুবক একটি মোটরবাইকে চড়ে গাজোল থেকে মালদার দিকে আসছিল।
গাজোলের রাঙাভিটা এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে নিয়মিত নাকাচেকিংয়ের সময় পুলিশ তাদের আটক করে।
এর পর তাদের ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় মোট ৪০ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা নগদ।
শুধু টাকাই নয়, ধৃতদের কাছ থেকে ৫৬৮ গ্রাম ব্রাউন সুগারও উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। মাদক পাচার এবং এত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
রাজ্যজুড়ে একের পর এক টাকা উদ্ধারের ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে যেভাবে হু হু করে কালো টাকা বা নগদ উদ্ধার হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল শুরু হয়েছে:
দুর্গাপুর: গত ৫ অগস্ট দুর্গাপুরের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করে ফরিদপুর থানা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই টাকার হদিশ পায়।
বীরভূম: সম্প্রতি বীরভূমে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল তোলপাড় হয়েছিল।
মালদা: এর কিছুদিন আগেই মালদার মঙ্গলবাড়িতে এক মাদক কারবারের চাঁই পিন্টু সরকারের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা এবং সোনা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। দক্ষিণ দিনাজপুরের একটি কাফ সিরাপ পাচার চক্রকে জেরা করেই মালদার ওই ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছিল।
বীরভূম থেকে শুরু করে মালদা ও দুর্গাপুর—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এভাবে লাগাতার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কোথা থেকে আসছে এই কালো টাকা এবং এর নেপথ্যে কোন কোন প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে, তা জানতে এখন জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।