শ্রাবণ সোমবারে পুণ্য অর্জনের সেরা ঠিকানা! বীরভূমের পাহাড়ের কোলে কোন প্রাচীন শিবমন্দির লুকিয়ে রয়েছে জানেন?

শ্রাবণের সোমবার মানেই শিবভক্তদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও বিশেষ একটি দিন। আর এই শ্রাবণ মাসের সোমবারে যদি আপনি সপরিবারে একটু শান্ত ও মনোরম পরিবেশে ভ্রমণ করতে চান, তবে বীরভূমের দুবরাজপুরে অবস্থিত প্রাচীন পাহাড়েশ্বর শিব মন্দির এবং বিখ্যাত মামা-ভাগ্নে পাহাড় হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ ডেস্টিনেশন। বর্ষার স্নিগ্ধ ও মনোরম প্রকৃতিতে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য এক অন্য মাত্রা নেয়।
কোথায় অবস্থিত এবং কী বিশেষত্ব এই মন্দিরের?
বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে অবস্থিত পাহাড়েশ্বর শিব মন্দিরটি অত্যন্ত প্রাচীন ও মহিমান্বিত। মন্দিরের বাহ্যিক স্থাপত্য ও নকশা সত্যিই দেখার মতো।
মন্দিরের ফটকের দু’পাশে ছোট প্রদীপের নকশা দিয়ে ঘেরা দুটি ঘণ্টার মতো খোদাই করা রয়েছে, যা দেবাদিদেব মহাদেবের ‘তৃতীয় নয়ন’-এর প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মন্দিরের মূল ফটকের সুন্দর নকশার ঠিক ওপরেই রয়েছে সিদ্ধিদাতা ভগবান গণেশের মূর্তি।
এই মন্দির দর্শনের পাশাপাশি আপনি ঘুরে দেখতে পারেন বিখ্যাত মামা-ভাগ্নে পাহাড়। ছোটনাগপুর মালভূমির একটি বর্ধিত অংশ এই পাহাড়ে বিশালাকার প্রাকৃতিক পাথরগুলি সম্পূর্ণ অদ্ভুতভাবে একে অপরের ওপর নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা এক অনন্য ভূপ্রকৃতির সৃষ্টি করেছে।
যাতায়াত ও আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
আপনি যদি বীরভূম ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে জেলার সদর শহর সিউড়ি থেকে খুব সহজেই যেকোনো গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যেতে পারেন দুবরাজপুর। সিউড়ি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার।
পথে আসতেই আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে এক বিরাট ঐতিহাসিক স্থাপত্য দেখে। সিউড়ি থেকে দুবরাজপুর যাওয়ার পথেই রয়েছে সুবিশাল লাল রঙের ঐতিহাসিক হেতমপুর রাজবাড়ির তোরণ। রাজবাড়ির এই বিশাল ফটক, তার ওপরে পাথরের তৈরি ছোট ছোট পরী এবং প্রাচীন বনেদিয়ানার আভিজাত্য আপনাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও টাইম মেশিনে চড়িয়ে অতীতে নিয়ে যাবে।
তাই চলতি শ্রাবণ মাসের চতুর্থ বা পঞ্চম সোমবারে ছুটির দিনে পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে বীরভূমের এই ঐতিহ্যমণ্ডিত ও প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা দুবরাজপুর থেকে ঘুরে আসতেই পারেন। বর্ষার এই মৌসুমে এখানকার স্নিগ্ধ হাওয়া ও পাহাড়ি পরিবেশ আপনার মন ভালো করে দিতে বাধ্য!