সবেতে এফডি করলেই কি চলবে? আধুনিক যুগের সেরা ৫ বিনিয়োগের হদিশ, জানুন কোথায় মিলবে বেশি রিটার্ন!

গত দুই দশকে ভারতের বিনিয়োগের দুনিয়ায় এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। এখন আর বিনিয়োগ কেবল ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD), জীবন বীমা বা প্রথাগত মিউচুয়াল ফান্ডের মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। আর্থিক বাজারে বর্তমানে একাধিক আধুনিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন হওয়ায়, টাকা খাটানোর আগে এই স্কিমগুলি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

১. মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Fund)
ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রচলন ১৯৭০-এর দশক থেকেই থাকলেও, গত এক দশকে এই খাতে মানুষের আস্থা ও আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে।

মাত্র ৫০০ বা ১,০০০ টাকা দিয়েও এতে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব।

বর্তমানে ব্যাংক এফডি-র একটি দুর্দান্ত ও জনপ্রিয় বিকল্প হিসেবে সম্পদ বৃদ্ধির জন্য অনেকেই এই মাধ্যমকে বেছে নিচ্ছেন।

২. এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)
ইটিএফ (ETF)-এর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের টাকা সাধারণত নিফটি ৫০-এর মতো নির্দিষ্ট কোনো বেঞ্চমার্কের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা হয় এবং এগুলি সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা করা যায়।

উদাহরণ: গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচা হয় এবং এর পেছনে আসল সোনা (Physical Gold) সংরক্ষিত থাকে। বিশ্ববাজারের সোনার দামের সঙ্গেই এর মূল্য ওঠানামা করে।

সরাসরি শেয়ার বাজারে কেনাবেচা করা গেলেও, ইটিএফ-এ লিকুইডিটি বা তারল্যের ঝুঁকির সম্ভাবনা কিছুটা বেশি থাকে।

৩. ইনডেক্স ফান্ড (Index Fund)
ইনডেক্স ফান্ড হলো এক ধরণের মিউচুয়াল ফান্ড, যা নিফটি ৫০ বা নিফটি ৫০০-র মতো নির্দিষ্ট কোনো ইনডেক্সকে অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।

এই ধরনের ফান্ডে বাজারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

এর ফান্ড পরিচালনার খরচ বা ‘এক্সপেন্স রেশিও’ (Expense Ratio) কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি অত্যন্ত উপযুক্ত।

৪. পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট স্কিম (PMS)
এটি একটি তুলনামূলক হাই-প্রোফাইল বিনিয়োগ মাধ্যম।

এই স্কিমে নাম লেখাতে হলে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা বাধ্যতামূলক।

এর ফান্ড পরিচালনার খরচ এবং ঝুঁকি—দুটিই যথেষ্ট বেশি, তবে এর বিপরীতে লাভের (Returns) সম্ভাবনাও থাকে আকর্ষণীয়। যাঁরা বেশি ঝুঁকি নিতে সক্ষম, তাঁরা ভালো পিএমএস স্কিম বেছে লাভবান হতে পারেন।

৫. অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (AIF)
অল্টারনেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা এআইএফ হলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম।

এতে বিনিয়োগ করতে হলে ন্যূনতম ১ কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন।

এই বিনিয়োগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতির হয়, অর্থাৎ অন্তত ৭ থেকে ১০ বছরের জন্য টাকা আটকে রাখতে হয়। পাশাপাশি এতে তারল্যের মারাত্মক অভাব রয়েছে। তাই এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী পণ্যটি মূলত বিত্তবান পরিবারগুলির জন্যই উপযুক্ত।

বিশেষ পরামর্শ: আধুনিক যুগের এই সমস্ত বিনিয়োগে যেমন অধিক রিটার্ন পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে, তেমনই থাকে উচ্চ ঝুঁকি, জটিলতা এবং তারল্যের অভাব। তাই যেকোনো স্কিমে টাকা লাগানোর আগে সমস্ত দিক ভালোভাবে যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আর্থিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *