সিঙ্গুরে টাটা জট কি এবার শেষ? মুম্বইয়ে মেগা বৈঠকের পর শোরগোল রাজ্যে!

অবশেষে কি কাটতে চলেছে সিঙ্গুরের টাটা গোষ্ঠীর বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার দীর্ঘদিনের জট? রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই শিল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সিঙ্গুরের অমীমাংসিত ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি জট কাটাতে মুম্বইয়ে টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সেরে ফেলল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বৈঠকের মূল এজেন্ডা: ক্ষতিপূরণের জট কাটানো
সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের প্রকল্প বাতিল হওয়ার পর থেকেই ক্ষতিপূরণ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা চলে আসছে। সূত্রের খবর, এই দীর্ঘদিনের জট চিরতরে দূর করতেই রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মুম্বইয়ে টাটা গোষ্ঠীর কর্তাদের মুখোমুখি বসেছিল।

মূলত সিঙ্গুর প্রকল্প বাতিল হওয়ার পর টাটা গোষ্ঠীকে যে মোট ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই অঙ্ক নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও পারস্পরিক সন্তোষজনক সমাধান সূত্র বের করাই ছিল এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য। জানা গিয়েছে, পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন স্বয়ং অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র।

আদালতের নির্দেশ ও আইনি প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা এবং তার ওপর বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা স্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনকে (WBIDC) তাদের স্থাবর সম্পত্তির তালিকা সম্বলিত একটি অঙ্গীকারপত্র জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

পটভূমি: ২০০৮ সালের সেই ঐতিহাসিক ঘটনা
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত জমি ও রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসেই সিঙ্গুর থেকে তাদের বহুল আলোচিত ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা গুজরাটের সানন্দতে স্থানান্তরিত করে টাটা মোটরস। ততদিনে সিঙ্গুর প্রকল্পের জন্য রাজ্যে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করে ফেলেছিল টাটা গ্রুপ। এর পর থেকে কেটে গেছে বহু বছর, কিন্তু আইনি ও আর্থিক জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি।

ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার ইতিবাচক ইঙ্গিত
মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত এদিনের এই বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক আবহেই সম্পন্ন হয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিনের এই আইনি ও আর্থিক জট কাটাতে উভয় পক্ষই যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকি, অতীতের সমস্ত জটিলতা এবং তিক্ততা পিছনে ফেলে আগামী দিনে রাজ্যে নতুন শিল্প আনতে এবং যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনার দিকটিও আলোচনায় উঠে এসেছে। এই বৈঠকের পর সিঙ্গুর ও শিল্প মহলে নতুন আশার আলো দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *