ক্ষমা করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী! নয়ডার সেই কিশোরীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আইনি অভিযোগ প্রত্যাহার, কোথায় গেল পরিবার?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে তৈরি হওয়া দেশজোড়া বিতর্কের অবসান ঘটল। প্রধানমন্ত্রী নিজে ক্ষমা করে দেওয়ায় এবং অভিযুক্ত কিশোরী প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত আইনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মামলাকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী স্মৃতি সিং।
গত জুলাই মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এক ১৫ বছরের কিশোরীর আপত্তিকর ভাষার ব্যবহারের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর পরই গাজিয়াবাদের বসুন্ধরার বাসিন্দা তথা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী স্মৃতি সিং নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ওই কিশোরী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে একটি ‘জিরো এফআইআর’ নথিভুক্ত হয়।
তবে পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বার্তায় স্পষ্ট জানান যে, ভুল বুঝতে পারা ওই পড়ুয়াদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের সঠিক পথে পরিচালিত করা উচিত এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। এরপরই ওই কিশোরী এবং অন্য অভিযুক্ত মেয়েরা প্রকাশ্যে ভিডিয়ো আপলোড করে ক্ষমা চেয়ে নেয়।
আইনজীবী স্মৃতি সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মেয়েরাও অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে, তখন এই বিষয়টি আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও অর্থ হয় না। সেই কারণে তিনি আটটি মামলা থেকেই নিজের অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং দিল্লি পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
পরিবারের বর্তমান অবস্থা: এদিকে, নয়ডার যে হাউজিং সোসাইটিতে ওই কিশোরী ও তাঁর মা এতদিন বসবাস করতেন, সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে তারা বর্তমানে বাড়িতে নেই। স্থানীয় সিকিউরিটি গার্ড ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের দাবি, ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই পরিবারটি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার লোকজন একাধিকবার তাদের বাসভবনে গেলেও পরিবারটি কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তারা সাময়িকভাবে পার্শ্ববর্তী হরিয়ানার ফরিদাবাদ বা অন্য কোথাও চলে গিয়ে থাকতে পারেন।