ছুঁড়ি বেঁকে গেলেও থামেনি উন্মত্ত হামলা! ফরিদাবাদের স্কুল চত্বরে শিহরণ জাগানো হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী?

হরিয়ানার ফরিদাবাদে ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশ স্তম্ভিত। প্রেমের একতরফা আকর্ষণ কীভাবে চরম ও হিংস্র রূপ নিতে পারে, তার সাক্ষী থাকল সিক্রোনা গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুল। স্কুলের অন্দরে ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে এক তরুণী শিক্ষিকাকে যেভাবে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে, তার লোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কীভাবে ঘটেছিল এই হত্যাকাণ্ড? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা শর্মা (২৯)। তাঁর একটি ৭ বছরের ছেলে ও ৫ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা অভিযুক্ত দীর্ঘ দু’মাস ধরে কষেছিল। জেরায় ২১ বছরের ধৃত যুবক অমিত জানিয়েছে, এর আগে স্কুল যাওয়ার পথে শিক্ষিকাকে আক্রমণের চেষ্টা করলেও ধরা পড়ার ভয়ে সে বিরত ছিল। শেষ পর্যন্ত সে স্কুল চত্বরের ভিতরেই এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে এবং এর জন্য বিশেষভাবে একটি ধারালো ছুরিও কিনেছিল।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ সিক্রোনা গ্রামের ওই বেসরকারি স্কুলে হাজির হয় অভিযুক্ত অমিত। এরপর শিক্ষিকা সন্ধ্যাকে তাঁর স্বামীর নাম ধরে ক্লাসরুম থেকে বাইরে ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যা ক্লাসের বাইরে আসতেই তাঁর চুলের মুঠি ধরে শুরু হয় অমানবিক অত্যাচার। শিক্ষিকার গলার ও বুকের অংশে ২৭ বারেরও বেশি ছুরি দিয়ে কোপানো হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের ক্ষোভ এতই তীব্র ছিল যে কোপাতে কোপাতে ছুরিটি বেঁকে যাওয়ার পরেও সে হামলা চালিয়ে গিয়েছিল। স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য। এমনকি কেউ বাঁচাতে এলে তাকেও খুনের হুমকি দেয় সে। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালত তাকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠায়।

পুরনো ক্ষোভ ও পরিবারের অভিযোগ: তদন্তে উঠে এসেছে, বেকার যুবক অমিতের একতরফা ভালোলাগা বা আকর্ষণের কথা জানতেন শিক্ষিকা সন্ধ্যা এবং তিনি তাতে কখনোই সাড়া দেননি। উল্টে এর আগে অমিতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির একটি মামলাও করেছিলেন সন্ধ্যা। যদিও সেবার ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পেয়েছিল অভিযুক্ত। কিন্তু সন্ধ্যা যখন নিজের কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানের ঠিকানা বদল করেন, তখন থেকেই তাঁর ওপর আক্রোশ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল অমিতের।

এদিকে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ভিকি গুর্জর পুলিশের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ক্ষোভ, অতীতের শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যদি সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করত, তবে হয়তো আজ স্ত্রীর এমন করুণ পরিণতি দেখতে হতো না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *