‘ভারতের মাদ্রাসা নিয়ে কিছু বলিনি!’ অবশেষে বড় সাফাই দিলেন তসলিমা নাসরিন, তোলপাড় নেটদুনিয়া

মাদ্রাসা বন্ধের সওয়াল করা এবং সেখানে ‘জিহাদি তৈরি’ হওয়ার মতো বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে সম্প্রতি তৈরি হয়েছিল প্রবল শোরগোল। প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি তবে ভারতের মাদ্রাসাগুলোকেই নিশানা করে এই মন্তব্য করেছেন? অবশেষে এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন বিতর্কিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ওই মন্তব্য ভারতের কোনো মাদ্রাসাকে উদ্দেশ্য করে ছিল না, বরং তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের মাদ্রাসাব্যবস্থার প্রেক্ষিতে করা হয়েছিল। ভারতের মাদ্রাসা নিয়ে তাঁর কোনো ধারণাই নেই।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তসলিমার স্পষ্ট বার্তা
নিজের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, “মাদ্রাসা সম্পর্কে আমি যে মন্তব্য করেছি, তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের মাদ্রাসা সম্পর্কে। ভারতের মাদ্রাসার বাস্তবতা সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই; তাই ভারতের মাদ্রাসা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্যও করিনি। কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যম আমার স্পষ্ট বক্তব্যটিকে ভারতের মাদ্রাসা সম্পর্কে করা মন্তব্য হিসেবে প্রচার করছে, যা সঠিক নয়।”
ঠিক কী বলেছিলেন তসলিমা?
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তাঁর সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই শেয়ার করেছেন লেখিকা। ভিডিওটিতে তাঁকে বলতে শোনা যায়:
“আসলে আমি বাংলাদেশের মাদ্রাসা সম্পর্কে যতটুকু জানি, আমার যেটা মনে হয়, মাদ্রাসাগুলো থাকা উচিত নয়। কারণ, অনেকসময় দেখা যায়, মাদ্রাসাগুলোয় জিহাদি তৈরি হচ্ছে। সবসময় অবশ্য নয়।”
শুধু তাই নয়, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন বা শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে এবং অনেক শিক্ষক বা ইমাম গ্রেফতার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তসলিমার মতে, এই ধরনের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে সব জায়গায় সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ স্কুল হওয়া উচিত। পাশাপাশি, এত মসজিদ তৈরির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতায় এসে এই মন্তব্য করার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করলেন এই লেখিকা।