অগাস্টে অন্নপূর্ণার ৩,০০০ এখনও পাননি? কবে ঢুকতে পারে? জেনেনিন বিস্তারিত

অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ প্রায় কাটতে চললেও এখনও লক্ষ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা। এমনকি গত মাসেও নিয়মিত এই প্রকল্পের অনুদান পাওয়া বহু উপভোক্তা এ বার টাকা পাননি বলে জোরালো অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে উপভোক্তাদের মনে একটাই প্রশ্ন— তবে কি আর অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মিলবে না? পেলেও ঠিক কবে নাগাদ তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং জল্পনা দূর করতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কি আর পাওয়া যাবে?
জনমনে তৈরি হওয়া এই আশঙ্কার উত্তর একাধিকবার স্পষ্ট করেছে প্রশাসন। তাদের জোরালো দাবি, যাঁরা এই প্রকল্পের জন্য প্রকৃতপক্ষেই যোগ্য, তাঁরা প্রত্যেকেই নিশ্চিতভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না, পর্যায়ক্রমে সকলের অ্যাকাউন্টেই টাকা পৌঁছে যাবে। তাই এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টাকা ঢুকতে দেরি হওয়ার আসল কারণ কী?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে বর্তমানে কড়াকড়ি নীতি নিয়েছে সরকার। শুধুমাত্র যোগ্য মহিলারা যাতে এই আর্থিক সুবিধা পান, তা সুনিশ্চিত করতেই এই কড়াকড়ি। এই মুহূর্তে জোরকদমে চলছে নথি যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ।
যাঁরা নতুন আবেদন করেছেন এবং যাঁদের আবেদন বর্তমানে ‘আন্ডার ইনকোয়ারি’ বা তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে, তাঁদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এর আগে যাঁরা নিয়মিত টাকা পেয়েছেন, তাঁদের নথির একাংশও পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য— এই প্রকল্পে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে এই ভাতার সুযোগ না পান, তা নিশ্চিত করা। এই ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ হলেই যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
অগাস্ট মাসে ঠিক কবে ঢুকবে টাকা?
সূত্রের খবর, যেহেতু একটি বড় অংশের উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি, তাই ভেরিফিকেশনের কাজ মিটতেই ১৫ অগাস্টের পর থেকে ধীরে ধীরে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। চলতি মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে সমস্ত যোগ্য মহিলা তাঁদের প্রাপ্য টাকা হাতে পেয়ে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাই এই সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কাদের টাকা দেওয়া হবে না?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা নির্দিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা নন, আবেদনের সময় তথ্য গোপন করেছেন কিংবা ভুল তথ্য জমা দিয়েছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপই নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।