অক্টোবর থেকে মিলবে মহার্ঘ ভাতা, অথচ পুরনো ১৮% বা ২০% বৃদ্ধির উল্লেখ নেই কেন? তুলকালাম রাজ্য রাজনীতিতে

ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার সম্প্রতি একধাক্কায় সরকারি কর্মীদের ডিএ (Dearness Allowance) বৃদ্ধি করেছে। রাজ্য বাজেট থেকে একলাফে ২০% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মহার্ঘ ভাতা, যা কার্যকর হবে অক্টোবর ২০২৬ থেকে। রাজ্য সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য মোট ৩৮% হারে ডিএ (DA) ও ডিআর (DR) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। মঙ্গলবার অর্থ দফতরের অডিট শাখার তরফে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
কাদের জন্য প্রযোজ্য এই বর্ধিত ডিএ?
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বর্ধিত এই ডিএ হার কার্যকর হবে। এর সুফল পাবেন—
রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা।
সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা।
পুরসভা, পুরনিগম ও পঞ্চায়েতের কর্মীরা।
বিধিবদ্ধ সংস্থা ও অন্যান্য সরকারি অধিগৃহীত সংস্থার সমস্ত কর্মচারী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংশোধিত মূল বেতনের ৩৮% হারে এই ডিএ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যেসব ক্ষেত্রে এনপিএ (NPA – Non-Practising Allowance) প্রযোজ্য, সেটি মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে তবেই মহার্ঘ ভাতার হিসাব করা হবে।
ডিএ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সরব কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ
সরকারের তরফ থেকে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হলেও এই বিজ্ঞপ্তির ভাষা ও প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কেন্দ্রের সপ্তম পে কমিশন এবং রাজ্যের ষষ্ঠ পে কমিশনের মহার্ঘ ভাতার তুলনামূলক চার্ট তুলে ধরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, কেন্দ্রের ডিএ যেখানে ৬৬%, সেখানে রাজ্যের ডিএ ছিল ১৮%, যার ফলে ফারাক দাঁড়াচ্ছে ৪২%। এই বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি নতুন সরকারের কাছে অবিলম্বে বকেয়া ৪২% ডিএ মেটানোর দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁর আরও গুরুতর অভিযোগ, “০১/০৪/২৬ থেকে ৪% ডিএ ঘোষণা করেও তা আদতে দেওয়া হয়নি।”
বিজ্ঞপ্তির ত্রুটি নিয়ে অর্থ দফতরকে কটাক্ষ
এখানেই শেষ নয়, সম্প্রতি প্রকাশিত ডিএ অর্ডার নিয়ে মলয়বাবু আরও আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়ে বলেন,
“আজ 2834-F p2 dt. 04/08/26 যে DA’র অর্ডার প্রকাশ পেয়েছে সেখানে বিগত সরকারের Existing 18% DA উল্লেখ নেই, ২০% ডিএ ০১/১০/২৬ থেকে দেওয়ার কথা তাও উল্লেখ নেই। সরকার শুধুমাত্র ০১/১০/২৬ থেকে ৩৮% ডিএ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। এইভাবে যে ডিএ’র অর্ডার কোনোদিন প্রকাশ পায়নি তা অর্থ দপ্তর খুব ভালোকরেই জানেন।”
একঝাঁক প্রশ্ন ও বকেয়া মেটানোর জোরাল দাবিতে এই নতুন ডিএ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল শুরু হয়েছে।