শ্রাবণের সোমবারে উপচে পড়া ভিড়! ভারতের একমাত্র পঞ্চমুখী শিব মন্দিরে একবার ঘুরে এসেছেন কি?

শৈব সম্প্রদায়ের কাছে শ্রাবণ মাস অত্যন্ত পবিত্র ও মহাদেবের মাস। এই বিশেষ মাসে একটু সময় করে ঘুরে আসতেই পারেন বাংলার এক অনন্য ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্রে। শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবারে ভক্তদের সমাগমে জমজমাট হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের বাঘডাঙ্গা পঞ্চমুখী শিব মন্দির। বিশেষত্ব হলো, এটি ভারতবর্ষের একমাত্র পঞ্চমুখী শিব মন্দির হিসেবে সুপরিচিত। মনস্কামনা পূরণ এবং শিবের মাথায় জল ঢালার উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা পায়ে হেঁটে এখানে ছুটে আসছেন।

শতবর্ষের ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন
মুর্শিদাবাদের স্থানীয় ইতিহাসে অতি পরিচিত বাঘডাঙ্গা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান। এই এলাকার পঞ্চমুখী শিবমন্দির প্রাঙ্গণের প্রধান আকর্ষণ হলো কালীশ্বর শিব মন্দির, যার পাশাপাশি আরও ১৩টি শিবমন্দির রয়েছে। আঠারো শতকের শেষদিকে বাঘডাঙ্গার রাজা কালীশঙ্কর রায় এই মন্দিরগুলি প্রতিষ্ঠা করেন।

মূল মন্দিরের বৈশিষ্ট্য: মূল দ্বার দিয়ে প্রবেশ করে প্রশস্ত অঙ্গনে রয়েছে কালীশ্বর শিব মন্দির। দৈর্ঘ্য-প্রস্থে প্রায় ১৮ ফুট এবং ন’টি চূড়াবিশিষ্ট এই মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। এর গায়ে সুন্দর দেবদেবী মূর্তি ও ফুলকারি নকশা খোদাই করা রয়েছে। মন্দিরের কালীশ্বর শিবটি পঞ্চমুখ বিশিষ্ট এবং এর উচ্চতা প্রায় চার ফুট।

অন্যান্য মন্দিরসমূহ: এই প্রাঙ্গণের উত্তরে পাঁচটি শিবমন্দির (যার দুটি আটচালা ও বাকিগুলি চারচালা) এবং দক্ষিণে আটটি শিবমন্দির (যার দুটি আটচালা ও বাকিগুলি চারচালা স্থাপত্য রীতির) অবস্থিত।

বাঘডাঙ্গা রাজবাড়ি ও প্রাচীন ঐতিহ্য
মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে একটু উত্তরে গেলে বাঘডাঙ্গা রাজের বিশাল ঠাকুরবাড়িতেও বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির দেখতে পাওয়া যায়। ঠাকুরবাড়ির মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলেই প্রাচীর ঘেরা প্রশস্ত অঙ্গন চোখে পড়ে। একটি বড় দালান মন্দিরে দেবী সিংহবাহিনী নিত্য পূজিতা হন এবং মূল বেদীর ওপর দেবী মহিষমর্দিনী রয়েছেন, যেখানে দুর্গাপূজায় জমজমাট উৎসব হয়।

এর পশ্চিমদিকে রয়েছে লক্ষ্মী জনার্দনের মন্দির। আঠারো শতকে সূর্যমানের পুত্রবধূ পার্বতীদেবী এগুলি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একসময় এখানে অজস্র মন্দির ছিল এবং কাঁসর-ঘণ্টাধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত থাকত। যদিও সময়ের নিয়মে আজ তার অনেক কিছুই ধ্বংসপ্রাপ্ত, তবে রাজবাড়িতে নরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়দের পূজিত প্রায় ৩০০ বছরের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি এখনও একটি দালান মন্দিরে যথাযথভাবে পূজিত হচ্ছে। এছাড়া কাছেই রয়েছে বিশাল দীঘি—‘সদর পুকুর’, যার বাঁধানো ঘাট ও বসার জায়গা করে চারপাশের সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *