‘খ্রিস্টানদের উপর সরাসরি আক্রমণ!’ ভারতের নতুন FCRA বিল নিয়ে গর্জে উঠলেন আমেরিকার রাইলি মুর!

বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে নানান টানাপোড়েনের পর এবার ভারত এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে দূরত্ব তৈরির আশঙ্কা দানা বাঁধছে। এবার মোদি সরকারের আনা বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা FCRA সংশোধনী বিল ২০২৬-কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভারতের এই আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি সরব হয়েছেন আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্য রাইলি মুর (Riley Moore)। তাঁর দাবি, এই আইনের আড়ালে ভারতে সরাসরি খ্রিস্টানদের উপর আঘাত হানা হচ্ছে এবং এর প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কেও পড়তে পারে।

কেন বিতর্ক দানা বেঁধেছে FCRA সংশোধনী বিল ঘিরে?
২০১০ সালের মূল FCRA আইন সংশোধন করতে চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করেছে কেন্দ্র। এই আইন মূলত বেসরকারি সংস্থা (NGO), দাতব্য সংস্থা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত নতুন সংশোধনীতে বলা হয়েছে:

একটি বিশেষ কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা থাকবে যেকোনো সংস্থার রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা পুনর্নবীকরণের। ওই সংস্থাগুলির বিদেশি অনুদান এবং সেই টাকা দিয়ে তৈরি সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও থাকবে তাদেরই হাতে।

যে সমস্ত সংস্থার গত দুই অর্থবর্ষে বিদেশি অনুদান এবং ব্যবহার্য অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকার কম, তারা রেজিস্ট্রেশন পুনর্নবীকরণের যোগ্য বলে গণ্য হবে না।

বিদেশি অনুদান অন্য কোনো সংস্থায় হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আনা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। পাশাপাশি, অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি প্রজেক্ট, কাজকর্ম, ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সমস্ত হিসাব প্রকাশের কড়া বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

সরকারের দাবি, স্বচ্ছতা আনতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এই আইনের মাধ্যমে সরকার মূলত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও ধর্মীয় সংগঠনের দীর্ঘদিনের সম্পদের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে। বিশেষ করে কেরলের মতো রাজ্য, যেখানে বহু খ্রিস্টান সংগঠন বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল, তারা এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুরের হুঁশিয়ারি:
মোদি সরকারের এই সংশোধনী প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর লিখেছেন, ভারতে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস সুপ্রাচীন। জিশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানের মাত্র কয়েক দশক পর সন্ত টমাস মালাবার উপকূলে পৌঁছন। এতৎসত্ত্বেও ভারতের সংসদ FCRA সংশোধনী বিল পাস করার মাধ্যমে গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বসাতে চাইছে।

হুমকির সুরে তিনি আরও লেখেন, “এটা খ্রিস্টানদের উপর সরাসরি আক্রমণ। এভাবে যদি বিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও আমাদের পুনর্বিবেচনা করতে হবে।” সবমিলিয়ে, অভ্যন্তরীণ আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রের এই বিল পাশ করার উদ্যোগ এখন দেশীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড়সড় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *