দৈনিক ১২ বার গুণমান পরীক্ষা! ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে বড় সাফাই দিল কেন্দ্র

গত বেশ কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মহলে ই২০ (E20 – ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল)-এর গুণমান এবং তা নিয়ে নানা জল্পনা ও ভেজাল মেশানোর অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটাতে অবশেষে একটি কড়া স্পষ্টীকরণ জারি করল পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ই২০ পেট্রোল অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয় এবং এর বিশুদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
পেট্রোলিয়ম মন্ত্রকের স্পষ্টীকরণ ও নজরদারি
এক্স (X)-এ দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ই২০ পেট্রোলের গুণমান উৎপাদন থেকে শুরু করে একেবারে গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিটি স্তরে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খলে একাধিক পর্যায়ে মান পরীক্ষা (Quality Check) করা হয় যাতে কোনো নিম্নমানের পেট্রোল বাজারে না আসে।
মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮৭ হাজারেরও বেশি পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ৮ থেকে ১২ বার জলের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়, যাতে পেট্রোল জল বা অন্য কোনো অশুদ্ধিমুক্ত থাকে। এছাড়া সম্প্রতি ক্লোরাইড ও সালফাইডের মতো ক্ষতিকারক উপাদানের উপস্থিতির জন্য দেশজুড়ে ২ হাজারের বেশি জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
দেশজুড়ে মাত্র দুটি অনিয়মের ঘটনা
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এত ব্যাপক তদন্ত ও নজরদারির মধ্যেও এখনও পর্যন্ত সারা দেশে মাত্র দুটি ক্ষেত্রে ক্লোরাইড ভেজাল বা অনিয়ম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনাগুলি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পগুলিতে জ্বালানি বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, ভেজাল বা নিয়ম লঙ্ঘনের সামান্যতম প্রমাণ মিললেই কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই ই২০ পেট্রোলের মান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি বজায় রাখছে।