চার কিলোমিটার দূর থেকেই ড্রোন ধাওয়া করে ধ্বংস করবে ‘শত্রুঞ্জয়’! ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হল নতুন অস্ত্র

আধুনিক যুদ্ধের রণকৌশলে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনার বহরে যুক্ত হলো প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থা বা অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম (C-UAS)— ‘শত্রুঞ্জয়’। শত্রুপক্ষের যেকোনো ড্রোন নিখুঁতভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং নিষ্ক্রিয় করার জন্যই এই শক্তিশালী ব্যবস্থাটি ডিজাইন করা হয়েছে।
‘শত্রুঞ্জয়’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও প্রযুক্তি
দিল্লিভিত্তিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ভূমি এনটেক (Bhumi Entech) দ্বারা তৈরি এই দেশীয় কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেমটি আকাশপথে শত্রুর যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো:
-
শনাক্তকরণ ক্ষমতা: রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সিস্টেমটি প্রায় ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে শত্রুর ড্রোন সহজেই চিহ্নিত করতে পারে।
-
জ্যামিং ও স্পুফিং: এটি শত্রু ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ সংকেত সম্পূর্ণ জ্যাম করে দিতে পারে এবং জিপিএস স্পুফিংয়ের (GPS Spoofing) মাধ্যমে তাদের দিকনির্দেশনা ব্যাহত করে সহজেই অকার্যকর করতে পারে।
-
সীমা (Range): এই সিস্টেমটির জ্যামিং পরিসীমা সর্বমুখী ২ কিলোমিটার এবং দিকনির্দেশিত ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
-
সহজে বহনযোগ্য (Portable): সিস্টেমটিকে অত্যন্ত মজবুত ও মডিউলার হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। ফলে সামরিক যানবাহনে স্থাপনের পাশাপাশি সৈন্যরা এটিকে সরাসরি কৌশলগত অবস্থানেও বহন করে নিয়ে যেতে পারেন।
চরম আবহাওয়াতেও কার্যক্ষম
‘শত্রুঞ্জয়’-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর চরম আবহাওয়া সহ্য করার ক্ষমতা। মাইনাস ২০ ডিগ্রি থেকে শুরু করে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত এটি নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে। ফলে লাদাখ বা সিকিমের মতো প্রচণ্ড ঠান্ডার পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা হোক কিংবা মরুভূমির চরম গরম— সব পরিবেশেই শত্রুর ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকবে এই দেশীয় প্রযুক্তি।
প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে সীমান্ত এলাকা, সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই শক্তিশালী অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমটি এক বিশাল ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।