মোহন ভাগবতের উদ্যোগকে সাধুবাদ! পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্ব ও ই২০ পেট্রোল ইস্যুতে বিস্ফোরক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা

আগামী ৬ আগস্ট আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পক্ষ থেকে ‘জেন জি’ (Gen Z) এবং ‘জেনারেশন আলফা’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিশেষ ভাষণ দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ‘তেলাপোকা জনতা পার্টির’ (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তবে এই উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছেন তিনি।
তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে সওয়াল
আরএসএস-এর এই ‘জেন-জি কানেক্ট’ উদ্যোগকে একটি “ভালো সূচনা” হিসেবে অভিহিত করে অভিজিৎ দীপকে বলেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি মত প্রকাশ করেন যে, শুধু বয়স্ক বা প্রবীণ নেতাদের ওপর নির্ভর করে না থেকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও বেশি তরুণ, শিক্ষিত এবং যোগ্য নেতৃত্বকে এগিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, যে সমস্ত শক্তি অতীতে মহাত্মা গান্ধী বা ড. বি. আর. আম্বেদকরের বিরোধিতা করেছিল, আজ তাদের মুখ থেকে সংবিধান নিয়ে জ্ঞান দেওয়া মানায় না বলেও তোপ দাগেন তিনি।
ই২০ পেট্রোল ও অন্যান্য ইস্যুতে সরব
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ই২০ (E20) পেট্রোল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রশ্ন, বাজারে যখন গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ খাঁটি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না, তখন কেন তাঁদের থেকে পুরো দাম আদায় করা হবে? এই ধরনের মিশ্রিত জ্বালানি গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি করছে এবং মাইলেজ কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
এছাড়া শিক্ষা ও সংরক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি দরিদ্র ও অভাবী শিশু যাতে মানসম্মত শিক্ষা পায় তা সুনিশ্চিত করা। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যের আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবিকে সমর্থন করে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত অন্যায়।
দলের স্বাধীন নীতি প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা
সিজেপি দলের দুই দিনের সাংগঠনিক সভা প্রসঙ্গে অভিজিৎ দীপকে জানান, এই বৈঠকে বিগত দিনের আন্দোলনগুলির পর্যালোচনা করা হবে এবং দেশব্যাপী দলের বিস্তার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করা হবে। তাঁর দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর ও মারধরের অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণভাবে ‘প্রচারণার কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, জনগণের আস্থা অর্জনই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর দল সিজেপি সর্বদা স্বাধীন থাকবে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনোই জোটে যাবে না। গণতন্ত্র রক্ষা করাই তাঁদের একমাত্র ব্রত বলে দাবি করেছেন তিনি।