বন্ধ ঘরে নয়, সরাসরি পাহাড়ের মাটিতে বসেই চূড়ান্ত হবে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান: রাজু বিস্তা

দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্সের দীর্ঘদিনের দাবি ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ (Permanent Political Solution) নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা রাজু বিস্তা। মঙ্গলবার গোর্খা ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, পাহাড়ের ভাগ্য নির্ধারণ কোনও বন্ধ ঘরে কিংবা দিল্লিতে বসে হবে না। বরং এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে পাহাড়ের মাটিতে বসেই।
সাংবিধানিক অধিকার, কোনো দয়া নয়
এদিন গোর্খা ভবনের অনুষ্ঠান থেকে সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান পাহাড়েই নির্ধারিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে পাহাড়ে এসে স্থানীয় মানুষ এবং সমস্ত অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। রাজু বিস্তার দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, এই সমাধান কোনও দয়া বা দাক্ষিণ্য নয়, এটি পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক অধিকার।
গতি পাচ্ছে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া
সাংসদ জানান, সম্প্রতি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্র-নিযুক্ত বিশেষ মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ কুমার সিংয়ের (প্রাক্তন ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার এবং বিএসএফ-এর প্রাক্তন ডিজি)-র সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কেন্দ্র নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী ইতিমধ্যে রাজ্যের সঙ্গেও আলোচনা সেরেছেন এবং সামগ্রিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।
সমাধান প্রক্রিয়াকে দ্রুত চূড়ান্ত রূপ দিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতি শীঘ্রই পাহাড় সফরে আসছেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন সাংসদ। তাঁর কথায়, “অগস্ট মাস অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দার্জিলিং পাহাড়ে পৌঁছাবেন। তিনি পাহাড়ের সমস্ত অংশীদার, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মুখোমুখি বসে কথা বলবেন এবং পাহাড়ের মাটি থেকেই আসবে সেই বহুপ্রতীক্ষিত সিদ্ধান্ত।”
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণ
উল্লেখ্য, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চলে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক কাঠামোর দাবি নতুন নয়। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সালের সুবাস ঘিসিংয়ের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন, ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের বিমল গুরুংয়ের পৃথক রাজ্যের দাবি কিংবা ২০১৭ সালের ১০৪ দিনের দীর্ঘ সাধারণ ধর্মঘট—উত্তরবঙ্গ বারবার রাজনৈতিক আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে। তবে ডিজিএইচসি বা জিটিএ-র মতো আধা-স্বায়ত্তশাসিত পর্ষদগুলি পাহাড়বাসীর ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের অর্থনীতি, ভৌগোলিক সীমানা এবং ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলের জাতীয় সুরক্ষার দিকটি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার একটি স্থায়ী রূপরেখা তৈরিতে সচেষ্ট। রাজু বিস্তার এই ঘোষণার পর থেকে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে।