চুক্তি না করলে চরম ধ্বংসলীলা! ইরানের জন্য এটিই শেষ সুযোগ, হুঙ্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের

ইরান-সংঘাতের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়াটা ইরানের চুক্তি করা এবং আমেরিকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বশেষ সুযোগ। ওভাল অফিসে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হওয়া উচিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগের অবসান ঘটানো। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ধাপ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো ইরানের পারমাণবিক-পথ সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করা।
বড় হামলা থেকে পিছু হটার কারণ
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীকে বড় ধরনের ধাক্কা দিলেও তেহরান সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশ— কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, রবিবার মার্কিন বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্যতম বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্রপ্রধানদের অনুরোধে তিনি কূটনীতিকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ট্রাম্পের সাফ কথা, ইরানের বিষয়ে তাঁর ধৈর্য্যের বাঁধ ক্রমেই ভেঙে যাচ্ছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও তেহরানের অবস্থান
এর আগে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের ঠগ’ বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। ওমানের সঙ্গে তেহরানের বৈঠক নিয়ে ইরান যে দাবি করেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইরান গোপনে বা অনুরোধ করে বৈঠক করলেও প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, সমালোচকদের একাংশের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমেরিকার ভোটারদের কাছে এই যুদ্ধ অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করছেন যে ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে কোনো কাজের কাজ হয়নি। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটারও রয়েছেন। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কৌশল বদলানোর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।