NCPI-তে থেকেও এনডিএ-তে নেই! মমতার দিকেই কি ফের পা বাড়াচ্ছেন খলিলুর-আবু তাহের?

এনসিপিআই (NCPI)-এর ব্যানারে থেকে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) ফেরার জল্পনা কি তবে সত্যি হতে চলেছে? গত সপ্তাহ থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। আর আজ, এনডিএ (NDA)-র বৈঠকে তিন মুসলিম সাংসদের ফের অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকেই একলাফে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। শুধু তাই নয়, এদিনের বৈঠকে যোগ না দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানও একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সাংসদ আবু তাহের খান এবং খলিলুর রহমান।
বড় ঘোষণা আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে আবু তাহের ও খলিলুর রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা এনসিপিআই-তে থাকলেও এনডিএ-র সঙ্গে নেই। বিজেপির সঙ্গে তাঁরা কোনও অবস্থাতেই যেতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু বা মুসলিমদের স্বার্থের বিরোধী কোনও বিল সংসদে আসলে, তাঁরা তার বিরুদ্ধেও জোরদার অবস্থান নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কেন বাড়ছে অস্বস্তি?
গত সপ্তাহেই প্রথমবার শরিক দল হিসেবে এনডিএ-র বৈঠকে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়রা। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং তাঁদের শরিক দল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তিন সংখ্যালঘু সাংসদ— আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজেদের লোকসভা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনবিন্যাসের কথা মাথায় রেখেই এই অবস্থান নিচ্ছেন এই সাংসদরা। এলাকার মানুষের কাছে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা বিজেপিশিবির নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন।
সৌগত রায়ের মন্তব্যের পর তীব্র জল্পনা
সম্প্রতি সংসদ চত্বরে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের সঙ্গে খলিলুর রহমান ও আবু তাহেরের আলাপচারিতা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। এরপরই সৌগত রায় দাবি করেছিলেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই এবং সেখান থেকে এনডিএ-তে যাওয়া বিষয়টি দলের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। এমনকী, বেশ কয়েকজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন তিনি।
সৌগত রায়ের সেই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তার পরেই আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের এই সাফ অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।