বয়সের আগেই কি চুল পেকে যাচ্ছে? জেনে নিন পাকা চুল কি আদৌ ফের কালো করা সম্ভব?

আজকাল কম বয়সে চুল পেকে যাওয়া বা ধূসর হয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মানুষের ধারণা, মানসিক চাপই বুঝি এর প্রধান কারণ। তবে বেশ কিছু সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাও এর জন্য সমানভাবে দায়ী। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, একবার চুল পেকে গেলে তা কি কোনো উপায়ে ফের কালো করা সম্ভব? কৈলাশ দীপক হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডা. অর্জু পাহওয়ার মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অকালে চুল পেকে যাওয়াকে ‘প্রি-ম্যাচিউর ক্যানিনাইটিস’ (Premature Canities) বলা হয়।

কেন চুল অকালে পেকে যায়?
ডা. অর্জু ব্যাখ্যা করেছেন যে, আমাদের চুল তার স্বাভাবিক কালো রঙ পায় ‘মেলানিন’ (Melanin) নামক এক ধরনের রঞ্জক বা পিগমেন্ট থেকে, যা নির্দিষ্ট কিছু কোষ দ্বারা উৎপাদিত হয়। যখন এই কোষগুলি মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তখন চুল ধীরে ধীরে ধূসর বা সাদা হতে শুরু করে। এর পেছনে মূলত রয়েছে বেশ কিছু কারণ:

বংশগত কারণ (Genetics): পরিবারে জিনগত বা বংশগত প্রবণতা থাকলে অল্প বয়সে চুল পাকার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

পুষ্টির ঘাটতি: শরীরে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি৩, আয়রন, কপার এবং ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: থাইরয়েড রোগ, অ্যালোপেসিয়া বা ভিটিলিগোর মতো অটোইমিউন রোগ চুল পাকার অন্যতম অনুঘটক।

জীবনযাত্রা ও পরিবেশ: অতিরিক্ত ধূমপান, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, পরিবেশগত দূষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ মেলানিন উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

পাকা চুল কি আবার কালো করা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর সম্পূর্ণ নির্ভর করে চুল পাকার অন্তর্নিহিত কারণের ওপর। যদি পুষ্টির অভাব বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাযোগ্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে চুল পেকে গিয়ে থাকে, তবে সময়মতো তার চিকিৎসা করালে চুল পাকা রোধ করা সম্ভব। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুলের স্বাভাবিক রঙও ফিরে আসতে পারে। তবে সমস্যাটি যদি বংশগত বা স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত কারণে হয়ে থাকে, তবে বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানে তা ফের কালো করার কোনো নিশ্চিত বা প্রমাণিত উপায় নেই।

কী করণীয়?
বাজারে নানা ধরনের সাপ্লিমেন্ট এবং ভেষজ প্রতিকার পাকা চুলকে রাতারাতি কালো করার দাবি করলেও, এর পেছনে জোরালো কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তাই এই ধরনের সমস্যায় কোনো অন্ধ বিশ্বাস না রেখে একজন অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত। চুল পেকে যাওয়ার আসল কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসকরা সাধারণত কিছু রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে পুষ্টির ঘাটতি, থাইরয়েড বা অন্য কোনো লুকানো শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে কি না, তা সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

যদিও জিনগত কারণে পেকে যাওয়া চুলকে জোর করে কালো করা যায় না, তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা, ধূমপান বর্জন করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *