হঠাৎ বন্ধ হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট! ফোনে ‘আন্ডার রিভিউ’ বার্তা আসতেই মাথায় হাত ব্যবহারকারীদের

সোমবার রাতে হঠাৎ করেই দেশজুড়ে বড়সড় হোয়াটসঅ্যাপ বিভ্রাট দেখা দিল। কোনো পূর্বঘোষণা বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই একের পর এক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। বহু ব্যবহারকারীর ফোনে ‘আন্ডার রিভিউ’ (Under Review) মেসেজ আসার পর জানানো হয় যে, আগামী ২৪ ঘণ্টা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে না। এই আকস্মিক ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চরম সমস্যায় পড়েন হাজার হাজার ব্যবহারকারী।

ঠিক কী হয়েছিল?
ভারতীয় সময় সোমবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ হঠাৎ ব্যবহারকারীদের ফোনে একটি মেসেজ আসে। সেখানে লেখা ছিল, “অ্যাকাউন্ট রিভিউতে রয়েছে। ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ ও ডিভাইসের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে তা হোয়াটসঅ্যাপের পরিষেবার শর্তাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করা যায়।” সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই বার্তায়।

এই মেসেজের নিচে ‘Learn about account issue’ অর্থাৎ অ্যাকাউন্টের সমস্যা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার একটি অপশন ছিল। সেখানে দায়িত্বশীলভাবে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যের লিঙ্ক দেওয়া ছিল। যাঁদের ফোনেই এই ধরনের মেসেজ এসেছে, তাঁদের অ্যাকাউন্ট সাময়িক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং অ্যাপের কোনো ফিচারই কাজ করছিল না বলে জানা গিয়েছে।

ক্ষোভ উগড়ে দেন ব্যবহারকারীরা
হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বহু ব্যবহারকারী। এক ভুক্তভোগী ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “কোনো কারণ না জানিয়েই আমার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। আমি ইতিমধ্যেই আপিল করেছি, কিন্তু সেখানে শুধু লেখা রয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য চাই।”

কী জানাল হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ?
পুরো বিষয়টি নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা সবসময় এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি, যারা আমাদের পরিষেবার অপব্যবহার করেন। ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে প্রয়োজন হলে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধও করা হয়। তবে কখনও কখনও ভুলবশতও এমনটা হতে পারে। সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করে ব্যবহারকারীদের আবার পরিষেবা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *