বিজেপির দুর্গ চুরমার! বাঁকীপুরে ২০ হাজারের বেশি ভোটে জিতে ইতিহাস গড়লেন পিকে, ফল আসতেই করলেন বড় দাবি

বিহারে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় উলটপুরাণ! এতদিন ধরে যে বাঁকীপুর কেন্দ্রটি বিজেপির সুরক্ষিত ‘স্ট্রংহোল্ড’ বা দুর্গ বলে পরিচিত ছিল, সেই আসনেই বাজিমাত করলেন ভোটকুশলী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) ওরফে পিকে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল ‘জনসুরজ পার্টি’-র হয়ে এই জয়কে বিহার রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কীভাবে এল এই জয়?

বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বাঁকীপুরে শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছিল। তবে দিন গড়ায়, ততই বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারের থেকে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন পিকে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে বাজিমাত করেন প্রশান্ত কিশোর।

কী বললেন জয়ের পর?

জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন পিকে। আত্মবিশ্বাসী প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “যে দুর্গ ৩০ বছরে ভাঙেনি, তা মাত্র ৩০ দিনেই ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।” পিকের সংযোজন, এই রায় প্রমাণ করে যে বিহারের মানুষ এখন গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে আসছের। তাঁর কথায়, “এই পতন প্রমাণ করে যে বিহারের মানুষ এখন চায়, সরকার যেন চার-পাঁচ কেজি বিনামূল্যে রেশন ও জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে।”

বর্তমান সরকার ও দলীয় লক্ষ্য নিয়ে বার্তা

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট করে পিকে বলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি এবং অমিত শাহ বিহারের উন্নতি, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই ইস্যুকেই তাঁরা সামনে রেখেছেন।

এদিন বর্তমান শাসক শিবিরকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “যদি সরকার সাধারণ মানুষের এই মৌলিক উদ্বেগগুলোকে উপেক্ষা করে, তবে ভবিষ্যতেও তাদের এমন শোচনীয় নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য শুধু বিধায়ক হওয়া নয়, বিহারের সার্বিক উন্নয়ন।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *