কন্যাশ্রী থেকে নাম বদলে এবার ‘কন্যারত্ন’! যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতিতে কী কী পরিবর্তন আসছে জানেন?

রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য অতীতে চালু থাকা জনপ্রিয় কন্যাশ্রী ও সবুজসাথী প্রকল্পের নাম ও রূপরেক্ষায় বড় পরিবর্তন আনল বর্তমান সরকার। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই দুই স্কিমের নাম বদলে রাখা হয়েছে যথাক্রমে ‘কন্যারত্ন’ (Kanyaratna Scheme) এবং ‘সারথী’। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, পূর্বে প্রতি বছর ১৪ আগস্ট ‘কন্যাশ্রী দিবস’ পালিত হলেও, এখন থেকে তা ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হবে। নাম পরিবর্তনের পর এই প্রকল্পের যোগ্যতা, সুযোগ-সুবিধা এবং আবেদন পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন এল কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই। একনজরে দেখে নেওয়া যাক এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য।

কন্যারত্ন স্কিমের প্রেক্ষাপট
মূলত ২০১৩ সালে নারীশিক্ষার প্রসার, মেয়েদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং স্কুলছুটের হার কমানোর লক্ষ্যে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে চালু হওয়া এই স্কিম আন্তর্জাতিক স্তরেও বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। বর্তমান সরকার নাম বদল করে এটিকে ‘কন্যারত্ন’ নামে আনলেও, প্রশাসনের দাবি—প্রকল্পটি আরও সুসংগঠিতভাবে রাজ্যজুড়ে পরিচালিত হবে।

কন্যারত্ন স্কিমের যোগ্যতার মাপকাঠি
পুরনো নিয়ম মেনেই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে:
১) আবেদনকারী ছাত্রীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

২) পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে থাকতে হবে।

৩) আবেদনকারীকে রাজ্য সরকার স্বীকৃত কোনও বিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে হবে।

৪) ছাত্রীর বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে (কে-২ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছরের বেশি)।

৫) এককালীন ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার জন্য ছাত্রীকে অবিবাহিতা হতে হবে এবং বয়সসীমা ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।

বিশেষ ছাড়: কোনও ছাত্রীর মা-বাবা উভয়েরই মৃত্যু হলে, আবেদনকারী ছাত্রী জুভেনাইল জাস্টিস হোমের আবাসিক হলে অথবা ছাত্রীটি ৪০% বা তার বেশি শারীরিকভাবে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন হলে আয়ের ঊর্ধ্বসীমার এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

আর্থিক সহায়তার রূপরেখা
এই প্রকল্পের আওতায় মূলত তিনটি ধাপে ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়:

প্রথম ধাপে, ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্রীদের বার্ষিক ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ধাপে, ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে এবং সে অবিবাহিতা থাকলে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য মেলে।

তৃতীয় ধাপে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সহায়তার সংস্থান রয়েছে।

আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আগে স্কুলের মাধ্যমেই এই প্রকল্পে আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ জমা দিতে হতো। তবে ‘কন্যারত্ন’ নামে নাম পরিবর্তিত হওয়ার পর নতুন আবেদন পদ্ধতি বা পোর্টাল নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে অতীতে যে কাগজগুলি জমা দিতে হতো, সেগুলি হলো—

আবেদনকারীর জন্ম শংসাপত্র।

অবিবাহিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ছাত্রী ও অভিভাবকের সই করা স্ব-ঘোষণা পত্র।

পরিবারের বার্ষিক আয়ের শংসাপত্র।

ছাত্রীর ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স।

পরিচয়পত্র ([Aadhaar Redacted] বা অন্যান্য নথিপত্র)।

পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

(পাশাপাশি অনাথ পড়ুয়াদের মৃত্যু শংসাপত্র এবং বিশেষ সক্ষমদের ক্ষেত্রে ডিজেবিলিটি সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়।)

নতুন সরকার প্রকল্পের নাম ‘কন্যারত্ন’ ও ‘সারথী’ রাখলেও এর মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই কাজ শুরু করেছে। তবে যোগ্যতা বা অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন কোনও পরিবর্তন আসছে কিনা, তা রাজ্য সরকারের পরবর্তী দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তির পরেই পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *