“ঘাসফুল হাতছাড়া হলে অন্য ফুল?”-দল ভাঙনের আবহে মমতার ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন চরমে পৌঁছেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট শিবির এবং অন্যদিকে ঋতব্রতের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া নতুন তৃণমূল—দলের দুই পক্ষই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে। এর জেরে অনিবার্যভাবেই দলের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক (জোড়াফুল) নিয়ে শুরু হয়েছে চরম দড়ি টানাটানি। আইনি এই লড়াই ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের দরবারে।

কমিশনের কাছে কী দাবি মমতার?

নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে দলের প্রতীক নিয়ে দ্রুত চূড়ান্ত মীমাংসার দাবি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে যাবতীয় আইনি ও সাংগঠনিক নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এরপরেও নির্দিষ্ট দুটি ডেডলাইন পার হয়ে গেলেও ঋতব্রত শিবির এখনও পর্যন্ত কোনো প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেনি। সেই কারণেই এই দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে দ্রুত ইস্যুর নিষ্পত্তি চাইছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার ‘প্ল্যান বি’ ও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

এমনিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সমস্ত দালিলিক প্রমাণ জমা দেওয়া হলেও, কালীঘাটের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে যে দলীয় প্রতীক নিয়ে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘প্ল্যান বি’ (Plan B) প্রস্তুত রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি কোনো কারণে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হয়, তবে অন্য কোনো ‘ফুল’ প্রতীক বেছে নিয়েই ভোটের ময়দানে নামবেন তিনি। যদিও ঠিক কোন ফুলকে নতুন প্রতীক হিসেবে বাছা হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

তবে শুধুমাত্র ‘প্ল্যান বি’-র ভরসাতেই বসে নেই কালীঘাট শিবির। ‘প্ল্যান এ’ অর্থাৎ আইনি লড়াইয়ের পথ থেকেও সরে আসতে নারাজ তাঁরা। ঋতব্রত শিবির যদি শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীক পেয়েও যায়, তবে তার বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে আইনি লড়াই চালাবে কালীঘাট তৃণমূল।

প্রতীক কার হাতে যাবে? নিয়মের মারপ্যাঁচ

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল বিভক্ত হলে দলের সংসদীয় (বিধানসভা ও লোকসভা/রাজ্যসভা সাংসদ) এবং সাংগঠনিক স্তরের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন যে শিবিরের দিকে থাকবে, প্রতীক সাধারণত তাদের পক্ষেই যায়।

এ বিষয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, “মানুষ যে প্রতীক বেছে নেবে, সেটাই হবে আসল প্রতীক।” অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস মানেই মমতা, আর মমতা মানেই তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল প্রতীকের একমাত্র অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীক তো তিনি নিজেই মানুষের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। মমতাদি নিজেই একটা ব্র্যান্ড।” রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *