‘পড়াশোনার খরচে কোনো বেনামি টাকা নেই!’ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ লেটার প্রকাশ্যে এনে মুখ খুললেন অভিজিৎ দিপকে

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার বিপুল খরচ মেটাতে কোনো গোপন ফান্ড বা বেনামী কালো টাকা নয়, বরং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ এবং ব্যাংক এডুকেশন লোনেই ভরসা ছিল। পরিবারের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস নিয়ে সম্প্রতি ওঠা যাবতীয় অভিযোগের জবাবে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)। সম্প্রতি সুরাতের এক তথ্য অধিকার কর্মী (RTI activist) অভিজিতের বাবার আয়ের সঙ্গে তাঁর বিদেশে পড়াশোনার খরচের অসামঞ্জস্য তুলে ধরে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান। আর সেই বিতর্কের ঠিক একদিন পরেই একটি সাক্ষাৎকারে নিজের মূল স্কলারশিপ লেটার সর্বসমক্ষে এনে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিলেন অভিজিৎ।
ঠিক কী নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক?
গত ১ অগস্ট অমিত তিওয়ারি নামের এক তথ্য অধিকার কর্মী মহারাষ্ট্র সরকারসহ একাধিক সরকারি দফতরে একটি 공식 অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের বাবা ভগবানরাও দিপকে (যিনি মহারাষ্ট্র শিল্প উন্নয়ন নিগম বা MIDC-র একজন প্রাক্তন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন) তাঁর সম্পত্তির এবং আয়ের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন।
আরটিআই কর্মীর মূল প্রশ্ন ছিল— একজন সরকারি কর্মচারী, যাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে, তিনি কীভাবে নিজের সন্তানকে মার্কিন মুলুকে (যুক্তরাষ্ট্রে) পাঠিয়ে পড়াশোনা করানোর মতো বিপুল খরচ বহন করলেন?
এই সমস্ত অভিযোগ ও গুঞ্জন সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে অভিজিৎ পরিষ্কার জানান যে, তাঁর আমেরিকা যাওয়ার এবং পড়াশোনার সিংহভাগ খরচই এসেছিল বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ থেকে। বাকি যেটুকু অর্থ প্রয়োজন হয়েছিল, তার জন্য তিনি ব্যাংক থেকে এডুকেশন লোন (Education Loan) নিয়েছিলেন, যা পরিশোধ করার দায় এখনও তাঁর ওপর রয়েছে।
আন্দোলনের ফান্ডিং ও পুলিশের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের দাবি
একটি সাক্ষাৎকারে সিজেপি (CJP) দল পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের বিষয়টিও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরেন অভিজিৎ। তিনি সাফ জানান যে, তাঁদের দলের ফান্ডিংয়ের পিছনে কোনো গোপন উৎস বা কালো টাকা নেই। ভবিষ্যতে দল পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে ক্রাউডফান্ডিং (Crowdfunding) বা সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপরই ভরসা রাখা হবে।
সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে হওয়া আন্দোলন প্রসঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, “সেখানে প্রতিবাদ জানাতে আসা মানুষজন নিজেদের জল ও খাবার নিজেরাই বহন করতেন। এমনকি অনেকে আমাদের আন্দোলনকারীদের খাবার দানও করেছিলেন।” সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, দিল্লি পুলিশের কিছু কর্মী নাকি গোপনে তাঁদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, “দিল্লিময় প্রতিবাদের সময় পুলিশের কিছু কর্মী এসে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন যে তাঁদের সন্তানরাও নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই তাঁরা সহানুভূতি থেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের আন্দোলনকারীদের জলের বোতল দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।”
রাজনৈতিক আক্রমণ ও পাল্টা তোপ
উল্লেখ্য, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য ১ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল ঘোষণা করার পর থেকেই সিজেপি-র ফান্ডিং এবং আর্থিক উৎস নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নজরদারি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
যদিও সিজেপি-র মুখপাত্র বৈষ্ণবী গৌর এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় তোপ দেগে তিনি লিখেছেন, “যারা একজন সাধারণ যুবকের পড়াশোনার বৈধ খরচ নিয়ে একের পর এক আরটিআই করছেন, তাঁদের সুনির্দিষ্টভাবে ‘পিএম কেয়ার্স ফান্ড’ (PM CARES Fund)-এর স্বচ্ছতার দিকেও একবার নজর দেওয়া উচিত।”