বুমরাহর ওপর অতিরিক্ত ভরসা কেন? সামিকে ব্রাত্য রাখায় কোচ গৌতম গম্ভীরকে তীব্র আক্রমণ সুরেশ রায়নার

আগামী ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের (2027 ODI World Cup) কথা মাথায় রেখে এখন থেকেই দলগঠন ও পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন অধিনায়ক শুভমান গিল (Shubman Gill) এবং কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। বিশেষ করে ওডিআই ফরম্যাটে তরুণ পেসারদের নিয়মিত সুযোগ দিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও ধারালো বোলিং আক্রমণ তৈরি করতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সূত্রের খবর, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আসন্ন বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে অভিজ্ঞ পেসার হিসেবে কোচ গৌতম গম্ভীরের প্রথম ও একমাত্র পছন্দ হলেন যশপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah)। কিন্তু অন্যদিকে, অভিজ্ঞ তারকা তথা বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার মহম্মদ সামি সম্পূর্ণ ফিট ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সত্ত্বেও গত এক বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে। গম্ভীরের এই নীতির পরোক্ষ সমালোচনা করে এবার সরব হলেন তাঁরই একসময়ের সতীর্থ সুরেশ রায়না (Suresh Raina)।
বুমরাহর চোটপ্রবণতা ও আইপিএলের প্রভাব
চলতি বছরে পিঠ ও হাঁটুর চোটের কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে যশপ্রীত বুমরাকে। ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া হোক কিংবা বিদেশের মাটিতে সিরিজ—তাঁর এই ইনজুরি কনসার্ন ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্লেষকের মতে, এই পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশেই দায়ী আইপিএল (IPL)। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামার আগে বুমরাহ পুরোপুরি ফিট না হতেই ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন, যার ফলে তাঁর পুরনো চোট বারবার ফিরে আসছে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ওডিআই বিশ্বকাপে যেখানে অভিজ্ঞ পেসারদের গুরুত্ব অপরিসীম, সেখানে একমাত্র বুমরার ফিটনেসের ওপর ভরসা করে থাকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সুরেশ রায়নার বিস্ফোরক মন্তব্য
অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলে সফলভাবে পারফর্ম করে যাওয়ার পরেও মহম্মদ সামিকে জাতীয় দলে সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন সুরেশ রায়না। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকেই টিম ইন্ডিয়ার বাইরে রয়েছেন সামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলা এবং আইপিএলে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে দুর্দান্ত বোলিং করলেও তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধই রয়েছে।
একটি সাক্ষাৎকারে সামির সমর্থনে কথা বলতে গিয়ে রায়না স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“ভারতের হয়ে ভালো খেলার মতো যথেষ্ট দম এখনও মহম্মদ সামির আছে। তিনি অত্যন্ত উদ্যমী এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য উন্মুখ। অন্য বোলারদের কথা জানি না, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে আমার প্রথম পছন্দ হবেন শামিই। আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর অসামান্য পারফরম্যান্সের কথা বিবেচনা করলে তাঁকে দলে রাখতেই হবে। তাঁর যে অভিজ্ঞতা ও উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তা অতুলনীয়। নির্বাচক ও কোচিং স্টাফদের উচিত তাঁকে নিয়ে পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা। তিনি ক্ষীণ আশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন, অথচ নির্বাচকরা কেবল তরুণদের সুযোগ দেওয়ার অজুহাতে তাঁকে উপেক্ষা করছেন—বিষয়টি সত্যিই অদ্ভুত।”
তরুণদের সুযোগ দেওয়ার জুজু দেখিয়ে একজন ম্যাচ উইনার ও অভিজ্ঞ পেসারকে এভাবে সাইডলাইন করে রাখা নিয়ে ক্রিকেট মহলেও এখন জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট শেষ পর্যন্ত সামির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার।