‘আগামী সাত দিন আমার ব্যক্তিগত কারণে চেয়ে নিচ্ছি…’ চরম বেদনা নিয়ে জনজীবন থেকে দূরে থাকছেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ

আরও একটা অগাস্ট মাস ফিরে আসতেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে সেই বিভীষিকাময় স্মৃতির ক্ষত। আরজি কর কাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনার আজ দুই বছর পূর্ণ হতে চললেও, সেই রাতের ভয়াবহতা এবং বিচারের অপেক্ষা আজও অম্লান। একদিকে বিচার পাওয়ার দীর্ঘ লড়াই, আর অন্যদিকে বুকফাটা শোকের ভার নিয়ে জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা অভয়ার মা রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath)। এই আগস্ট মাসেই ব্যক্তিগত ও মানসিক কারণে আগামী সাত দিনের জন্য সমস্ত ধরনের জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার বড় ঘোষণা করলেন তিনি।

কী জানালেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ?
উল্লেখ্য, কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হলে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ঘটনা রাজ্যজুড়ে শুধু নয়, গোটা দেশেই এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসককে নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর থেকে বিচারের দাবিতে পথে নেমেছিল গোটা দেশ। বর্তমানে রত্না দেবনাথ পানিহাটির বিধায়কের দায়িত্ব সামলালেও, একমাত্র মেয়েকে আকস্মিক হারানোর সেই শূন্যতা ও বুকভাঙ্গা বেদনা যে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ও নিষ্ঠুর বাস্তবতা, তা তাঁর সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন বার্তায় রত্না দেবনাথ লিখেছেন:

“আমি আপনাদের থেকে সাত দিন আমার ব্যক্তিগত কারণে চেয়ে নিচ্ছি। আগামী সাতদিন আমি ফোনে বা সরাসরি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব না। কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত না থাকার আর্জি জানাচ্ছি। আমার জনতার কার্যালয়ে অফিসিয়াল কাজ যেমন চলার চলবে আপনারা প্রয়োজনে যোগাযোগ করে নেবেন। আমার এই কদিনের অনুপস্থিতি আপনারা আন্তরিকভাবে মার্জনা করবেন আশা রাখি।”

বিধায়কের এই সাময়িক বিরতির সময়েও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তাঁর নিজস্ব জনতার কার্যালয় বা দপ্তরের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মেই চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বিচারহীনতার প্রতীক্ষায় আরও একটি আগস্ট
আরজি কর কাণ্ডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই সংবেদনশীল সময়ে যখন পুরনো সেই প্রতিবাদের দিনগুলি ফিরে আসছে, তখন রত্না দেবনাথের এই সাময়িক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এক মায়ের অন্তরের গভীর শোক ও যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ। সময় যতই এগোউক না কেন, বিচার পাওয়ার অদম্য প্রত্যাশা এবং সন্তানের অমলিন স্মৃতিই যে একটি পরিবারের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের জ্বালানি, এই ঘটনাই যেন আরও একবার সেই চরম বাস্তবতাকে সমাজের সামনে তুলে ধরল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *