বর্ষার দিনে পাতে থাক পুরনো দিনের ঐতিহ্য! নারকেল-ছোলা দিয়ে বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু ‘কচুর শাকের ঘন্ট’

কচুর শাক খেতে ভালোবাসেন না এমন বাঙালি মেলা ভার। তবে কচু বেছে, সেদ্ধ করে তা রান্না করার দীর্ঘ ঝক্কির কথা ভেবে অনেকে আজকাল আর রান্নাঘরে হাত দিতে চান না। কিন্তু ছুটির দিনে বা বর্ষার মৌসুমে গরম গরম ভাতের সঙ্গে যদি ট্রেডিশনাল স্টাইলে একাল ওকালের স্বাদে কচুর শাকের ঘন্ট থাকে, তবে তো কথাই নেই! মঙ্গলকাব্য থেকে শুরু করে ওপার বাংলার হেঁসেলের ঐতিহ্য—ঘন্ট রান্নার ইতিহাস বহু পুরনো। ফলের খোসা থেকে ডাঁটা, কচুর পাতা বা কন্দ—সবকিছু দিয়েই রান্না করতে ওস্তাদ ছিলেন আমাদের পূর্বসূরিরা। তাই ঝক্কি এড়িয়ে কম উপকরণে কীভাবে রেঁধে ফেলবেন এই সুস্বাদু পদ, দেখে নিন তার সহজ পদ্ধতি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
মূল উপকরণ: ৫০০ গ্রাম কচুর শাক (কচি অংশ)
নারকেল ও ছোলা: আধ কাপ নারকেল কোরা এবং ১/৪ কাপ ভিজিয়ে রাখা ছোলা
ফোড়ন ও মশলা: ২-৩টি শুকনো লঙ্কা, ১ চামচ পাঁচফোড়ন, ১ চামচ আদাবাটা, ১ চামচ জিরেগুঁড়ো, ১ চামচ ধনেগুঁড়ো, ১ চামচ হলুদগুঁড়ো, আধ চামচ লঙ্কাগুঁড়ো, ৩টি কাঁচালঙ্কা
অন্যান্য: ৪ চামচ সর্ষের তেল, স্বাদমতো নুন ও চিনি, এবং সামান্য লেবুর রস বা তেঁতুলের ক্বাথ (গলা চুলকানোর ভয় কাটাতে)
রান্নার সহজ প্রণালী (Step-by-Step Recipe)
১. শাক প্রস্তুত করা: প্রথমে কচু শাকের কচি ডাটা ও পাতাগুলিকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এরপর ভালো করে ধুয়ে নিন।
২. সেদ্ধ করার পর্ব: কড়াইতে পর্যাপ্ত জল ও সামান্য নুন মিশিয়ে কচুর শাকগুলি ভালো করে সেদ্ধ করতে বসান। শাক সেদ্ধ হয়ে গেলে জল ঝরিয়ে নামিয়ে রাখুন। এরপর হাত দিয়ে বা চামচ দিয়ে শাকগুলিকে হালকা করে চটকে নিন, তবে খেয়াল রাখবেন একদম যেন মিহি পেস্ট বা বাটা না হয়ে যায়।
৩. ছোলা ও নারকেল প্রস্তুতি: কচু সেদ্ধ করার সঙ্গেই ভিজিয়ে রাখা ছোলাগুলিও সামান্য নুন দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। অন্যদিকে নারকেলটি কুচিয়ে বা কুরিয়ে আলাদা করে রাখুন।
৪. মশলা কষানো: কড়াইতে পরিমাণমতো সর্ষের তেল গরম করে তাতে শুকনো লঙ্কা ও পাঁচফোড়ন ফোড়ন দিন। ফোড়নের সুন্দর গন্ধ বের হলে আদা বাটা ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে হালকা করে কষে নিন। মশলা থেকে তেল ছাড়লে সেদ্ধ করে রাখা কচুর শাক কড়াইতে দিয়ে দিন এবং ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন।
৫. মশলা ও উপকরণের মিশ্রণ: এবার কড়াইতে একে একে হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো ও ধনেগুঁড়ো দিয়ে দিন। এরপর আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা ছোলা এবং নারকেল কোরা মিশিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন ও মিষ্টি (চিনি) দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। অনেকে এই পর্যায়ে গলা চুলকানোর ভয়ে সামান্য লেবুর রস বা তেঁতুলের ক্বাথও ব্যবহার করেন।
৬. ঘন্ট তৈরি: মাঝারি থেকে কম আঁচে রান্নাটি হতে দিন। যতক্ষণ না শাকের নিজস্ব জল সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ কড়া নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে এবং শাকের থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে নামিয়ে নিন।
ব্যস! গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন জিভে জল আনা ট্রেডিশনাল ‘কচুর শাকের ঘন্ট’।