অবশেষে সব আশার অন্ত! পাকিস্তানের ব্রড পিকে তুষারধসে উদ্ধার বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পূর্জা ‘নিমস দাই’-এর মৃতদেহ

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালতিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিক (Broad Peak)-এ ভয়াবহ তুষারধসের কবলে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বিশ্বখ্যাত নেপালি-ব্রিটিশ পর্বতারোহী নির্মল পূর্জা ওরফে ‘নিমস দাই’-এর। গত তিন দিন ধরে তাঁর নিখোঁজ থাকার ঘটনায় গোটা বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রার্থনাকে ব্যর্থ করে দিয়ে প্রায় ৫,৭০০ মিটার উচ্চতা থেকে উদ্ধার করা হলো তাঁর মৃতদেহ।
উদ্ধার অভিযানের ভয়াবহ পরিস্থিতি
আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান (Alpine Club of Pakistan)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত দুর্গম পরিবেশ, তীব্র বরফঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী দল ব্রড পিকে নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে নামে। স্থল উদ্ধারকারী দল প্রায় ৫,৭০০ মিটার উচ্চতায় নির্মল পূর্জার কাছে পৌঁছয় এবং তাঁর দেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে আরও কয়েকটি মরদেহ দেখতে পাওয়া গেলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেগুলি এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল হওয়া এবং খাড়াই ঢাল ও বারবার তুষারধসের চরম ঝুঁকির কারণে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে উদ্ধারকর্মীদের সম্পূর্ণ পায়ে হেঁটে অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকার্য চালাতে হচ্ছে।
দুর্ঘটনা ও নিখোঁজ অভিযাত্রী দল
গত বৃহস্পতিবার কে-২ (K2)-এর কাছাকাছি অবস্থিত ব্রড পিকে আচমকাই এই ভয়াবহ তুষারধস নামে। যার ফলে নির্মল পূর্জা সহ মোট ১০ জন আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী নিখোঁজ হয়ে যান। এই দলে পাঁচজন নেপালি, একজন পাকিস্তানি, একজন ওমানি, একজন মার্কিন এবং একজন চিনা পর্বতারোহী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এর আগে শনিবারই নির্মলের নিজস্ব অভিযাত্রী সংস্থা ‘এলিট এক্সপেড’ জানিয়ে দিয়েছিল যে দলের কোনো সদস্যের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া দেহগুলি বিমানে করে গিলগিট-বালতিস্তানের স্কারদুতে (Skardu) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বাকি নিখোঁজ পর্বতারোহীদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।