ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও কি শিক্ষক হওয়া যাবে? বি.এড ভর্তি নিয়ে অবশেষে এল বড় আপডেট!

বি.টেক ডিগ্রিধারীদের বি.এড-এ (B.Ed) ভর্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা শীঘ্রই দূর হতে চলেছে। এই জটিলতা কাটাতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় (RU)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষা অনুষদের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বি.টেক শিক্ষার্থীদের জন্য বি.এড-এ পাঠ্য বিষয় নির্ধারণ করে দেওয়ার পরিষ্কার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বি.টেক পড়ার সময় যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা এবার সেই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই বি.এড-এ ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন। এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে।
প্রস্তাবের মূল বিষয়সমূহ:
বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে স্বীকৃতি: শিক্ষা অনুষদের আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পাঠানো চিঠিতে প্রস্তাব দিয়েছেন যে, বি.টেক পড়ুয়াদের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে গণ্য করা হোক।
দুটি শিক্ষণীয় বিষয় নির্বাচন: এই শিক্ষার্থীরা বি.এড-এর জন্য এমন দুটি শিক্ষণীয় বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা তাঁরা বি.টেক পড়ার সময় অন্তত দু’বছর ধরে অধ্যয়ন করেছিলেন।
বিশেষায়নের প্রমাণপত্র: বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান এবং গণিতের মতো নির্দিষ্ট বিষয়ে বি.ই বা বি.টেক ডিগ্রিধারীরা তখনই ভর্তি হতে পারবেন, যখন তাঁরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত পড়াশোনা করার প্রমাণপত্র দেখাতে পারবেন।
এনসিটিই (NCTE)-এর নিয়ম: এই পুরো ব্যবস্থাটি জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ (NCTE)-এর ২০১৪ সালের প্রবিধানমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ রেখেই প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
মহাবীর ওপেন ইউনিভার্সিটি (Maharaja Surajmal / বর্ধমান মহাবীর মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) কর্তৃক পরিচালিত PTET-2026 কাউন্সেলিং চলাকালীন বেশ কয়েকজন বি.টেক ডিগ্রিধারীকে বি.এড কলেজে আসন বরাদ্দ করা হয়। জয়পুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে এই শিক্ষার্থীরা আসন পেলেও, ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতেই কলেজ কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের বিভ্রান্তির মুখে পড়ে।
কলেজগুলোর তরফ থেকে জানানো হয়, রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আগে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বি.টেক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যার ফলে বহু কলেজই এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে অনীহা প্রকাশ করে।
মিলবে স্থায়ী সমাধান
শিক্ষা অনুষদের এই নতুন প্রস্তাব পেশ হওয়ার পর থেকে আশার আলো দেখছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শীঘ্রই এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বি.টেক ডিগ্রিধারীদের বি.এড-এ ভর্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা ও বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং তাঁরা কোনো বাধা ছাড়াই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হতে পারবেন।