বহু প্রতীক্ষার পর ভারতে ফিরল এমজি হেক্টর প্লাস ডিজেল! দাম কত এবং কী কী বদল এল গাড়িটিতে?

ভারতীয় বাজারে নিজেদের জনপ্রিয় এসইউভি এমজি হেক্টর প্লাস-এর (MG Hector Plus) ডিজেল ভ্যারিয়েন্টটি আবারও লঞ্চ করল এমজি মোটর ইন্ডিয়া (MG Motor India)। গাড়িটির প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লক্ষ টাকা। কোম্পানিটি এই গাড়িটিকে একদম নতুন শার্প প্রো (O) ট্রিমে বাজারে এনেছে। তবে গাড়িপ্রেমীদের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হলো, এই দফায় ডিজেল ইঞ্জিনের সাথে শুধুমাত্র ৭-সিটার মডেলটিই পাওয়া যাবে এবং পূর্বে উপলব্ধ থাকা ৫-সিটার ডিজেল ভ্যারিয়েন্টটি সম্পূর্ণভাবে লাইনআপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, হেক্টর প্লাস ফেসলিফ্টটি গত বছরের ডিসেম্বরে লঞ্চ করা হয়েছিল, তবে সেই সময় শুধুমাত্র পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টগুলোরই দাম প্রকাশ করা হয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কোম্পানিটি তাদের জনপ্রিয় ২.০-লিটার ডিজেল ইঞ্জিনটি পুনরায় চালু করল। বাজারে এই এসইউভিটি সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে টাটা সাফারি (Tata Safari) এবং হুন্ডাই আলকাজারের (Hyundai Alcazar)-এর মতো শক্তিশালী গাড়িগুলির সাথে। তবে শুধুমাত্র একটি একক ডিজেল ভ্যারিয়েন্ট উপলব্ধ থাকায়, গ্রাহকদের কাছে আগের মতো বহুমুখী বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ কিছুটা কমল।

ডিজাইন এবং এক্সটেরিয়র কেমন?
নতুন হেক্টর প্লাস ডিজেলের শার্প প্রো (O) ভ্যারিয়েন্টটির লুক ও ডিজাইন প্রায় এর টপ-এন্ড মডেলের মতোই রাখা হয়েছে। এর আকর্ষণীয় এক্সটেরিয়রে রয়েছে—

আধুনিক এলইডি হেডলাইট ও এলইডি ফগ ল্যাম্প

নজরকাড়া এলইডি ডিআরএল (DRL)

১৮-ইঞ্চি স্টাইলিশ অ্যালয় হুইল

কানেক্টেড এলইডি টেইললাইট

আগে ডিজেল মডেলটি একাধিক বিভিন্ন ট্রিমে পাওয়া গেলেও, এখন এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট ট্রিম এবং ৭-সিটার লেআউটেই অফার করা হচ্ছে।

প্রিমিয়াম কেবিন ও আধুনিক ফিচার
শার্প প্রো (O) ট্রিমটি কোম্পানির সর্বোচ্চ স্তরের স্যাভি প্রো (Savvy Pro) ভ্যারিয়েন্টের ঠিক নিচেই অবস্থান করে। এর কেবিনের ভেতরে রয়েছে প্রিমিয়াম ট্যান ও কালো রঙের ডুয়াল-টোন থিম। সাতটি সিটের এই গাড়ির ড্যাশবোর্ড এবং ডোর প্যাডে দেওয়া হয়েছে আকর্ষণীয় লেদারেট ফিনিশ।

এসইউভিটির কেবিন মাতিয়ে রাখতে রয়েছে একগুচ্ছ আধুনিক ফিচার:

একটি বড় ১৪-ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম

৮-ইঞ্চি ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে

ফিজিক্যাল বাটনসহ একটি আরামদায়ক ৩-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল

ভেন্টিলেটেড ও পাওয়ারড ফ্রন্ট সিট

প্যানোরামিক সানরুফ এবং ওয়্যারলেস ফোন চার্জার

৮-স্পিকার ইনফিনিটি সাউন্ড সিস্টেম (সাবউফার ও অ্যামপ্লিফায়ার সহ) এবং অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল

সুরক্ষা ব্যবস্থা
সুরক্ষার দিক থেকেও গাড়িটিতে পর্যাপ্ত নজর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার ফিচারের মধ্যে রয়েছে:

৬টি এয়ারব্যাগ

রিয়ার পার্কিং ক্যামেরা

ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP)

ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS)

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই মডেলে ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, পাওয়ারড টেইলগেট, পিএম ২.৫ এয়ার পিউরিফায়ার এবং লেভেলের মতো আধুনিক লেভেল-২ ADAS ফিচারগুলো রাখা হয়নি।

ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স পারফরম্যান্স
যান্ত্রিক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে এসইউভিটিতে সেই চেনা ও বিশ্বস্ত ২.০-লিটার টার্বোডিজেল ইঞ্জিনটিই ব্যবহার করা হয়েছে। এই শক্তিশালী ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১৭০ হর্সপাওয়ার এবং ৩৫০ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। তবে এটি শুধুমাত্র ৬-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের সাথেই পাওয়া যাবে; বর্তমান এই ডিজেল ভ্যারিয়েন্টটিতে কোনো অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের অপশন রাখেনি কোম্পানি। মজার বিষয় হলো, একই ইঞ্জিন টাটা হ্যারিয়ার এবং টাটা সাফারিতেও ব্যবহার করা হয়, যেখানে গ্রাহকরা ম্যানুয়ালের পাশাপাশি অটোমেটিক গিয়ারবক্সের সুবিধাও পেয়ে থাকেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *