গর্ভবতী স্ত্রীর সেবিকার সঙ্গেই প্রেমের ফাঁদ! বিয়ের চাপে প্রেমিকাকে খুন করে স্যুটকেসে ভরে লাশ ফেলল চালক

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিশাখাপত্তনমের কাঞ্চারাপালেমের দুর্গা নগর এলাকার এক গাড়িচালক তার প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, অপরাধের সমস্ত প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই যুবতীর মৃতদেহ একটি বিশাল স্যুটকেসে ভরে ট্রেনে করে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশায় নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি নির্জন এলাকায় ফেলে দিয়ে আসে। পুলিশি তৎপরতায় অবশেষে ওড়িশা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে অভিযুক্ত ঘাতক প্রেমিক।
কীভাবে শুরু পরকীয়ার সম্পর্ক?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চারাপালেমের দুর্গা নগরের বাসিন্দা বলিসেট্টি সুরেশ পেশায় একজন গাড়িচালক। তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় বাড়ির কাজকর্মে সাহায্য করতে এবং স্ত্রীর দেখাশোনা করার জন্য পরিচিত এক তরুণীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু একই ছাদের নিচে বসবাস করার সুবাদে সুরেশ ও ওই তরুণীর মধ্যে নিয়মিত মেলামেশা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর প্রেমে রূপ নেয় এবং তাদের মধ্যে একটি অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিয়ের চাপ এবং নির্মম পরিণতি
সুরেশের গর্ভবতী স্ত্রী পিত্রালয়ে চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। সম্প্রতি সুরেশের স্ত্রী নিজের বাড়িতে ফিরে এলে, ওই ভুক্তভোগী যুবতী সুরেশকে ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে যে তাঁকে অবিলম্বে বিয়ে করতে হবে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়শই তীব্র বাদানুবাদ ও অশান্তি বাঁধত। ঘটনার দিন সেই বিবাদ চরমে পৌঁছায়। ক্ষিপ্ত হয়ে সুরেশ যুবতীটিকে সজোরে দেয়ালের দিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং তাঁর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এই মারধরেই ঘটনাস্থলে ওই যুবতীর মৃত্যু হয়।
স্যুটকেসে ভরে ট্রেনে করে লাশ পাচার
প্রেমিকাকে খুন করার পর অপরাধ ঢাকতে এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করে অভিযুক্ত সুরেশ। সে কাউকে কোনো ঘুণাক্ষরেও বুঝতে না দিয়ে যুবতীর মৃতদেহটি একটি খুব বড় মাপের সুটকেসে ভরে ফেলে। এরপর সেই স্যুটকেসটি ট্রেনের কামরায় তুলে সোজা ওড়িশার রায়গড়া জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সেখানে চান্দিলি থানার অধীনস্থ একটি সম্পূর্ণ নির্জন ও ফাঁকা এলাকায় স্যুটকেসটি ফেলে দিয়ে সে নিরাপদে বিশাখাপত্তনমে ফিরে আসে।
ওড়িশা পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত
এদিকে, ওড়িশার ওই নির্জন এলাকায় একটি ভারী ও রহস্যজনক স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে ওড়িশা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্যুটকেস খুলতেই ভেতরে যুবতীর মৃতদেহ দেখতে পায় এবং তা উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তথ্যপ্রমাণ ও তল্লাশির ভিত্তিতে ওড়িশা পুলিশ বুঝতে পারে যে এই হত্যাকাণ্ডের মূল শিকড় লুকিয়ে রয়েছে অন্ধপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। এর পরেই ওড়িশা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত বিশাখাপত্তনমের কাঞ্চারাপালেমে পৌঁছে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক বলিসেট্টি সুরেশকে গ্রেপ্তার করে।