রেলওয়ে গ্রুপ ডি ফিজিক্যালে চরম বিপর্যয়! প্রথম পাঁচ দিনেই ফেল প্রায় ৪০ শতাংশ প্রার্থী, কারণ জানলে অবাক হবেন

ভারতীয় রেলওয়ের গ্রুপ ডি নিয়োগের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় (PET) বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বড় একটা অংশের পরীক্ষার্থী। প্রয়াগরাজের ডিএসএ গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার প্রথম পাঁচ দিনেই অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রায় ৪০ শতাংশ নির্ধারিত মান পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত চরম আর্দ্র আবহাওয়া এবং কষ্টসাধ্য দৌড় প্রতিযোগিতাই অনেক প্রার্থীর জন্য প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, কঠিন এই পরীক্ষার ওজন-সহনশীলতার অংশটিতে বেশিরভাগ প্রার্থীই সাফল্যের সঙ্গে উতরে গেছেন। উল্লেখ্য, এই মেগা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারতীয় রেলওয়ে মোট ৩২,৪৩৮টি শূন্য গ্রুপ ডি পদে কর্মী নিয়োগ করবে। একইসঙ্গে রেলের নতুন নিয়মানুযায়ী গর্ভবতী মহিলা প্রার্থীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথম পাঁচ দিনের পরীক্ষার পরিসংখ্যান
রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দিনে মোট ২,৮১৪ জন প্রার্থী পিইটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১,৬৯৩ জন প্রার্থীকে পরবর্তী ধাপের জন্য সফল ঘোষণা করা হয়েছে, আর ১,১২১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় মানদণ্ড ছুঁতে ব্যর্থ হন। হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দিনে পরীক্ষায় সাফল্যের হার ছিল প্রায় ৬০.১৬ শতাংশ এবং অনুত্তীর্ণ বা ফেলের হার ছিল প্রায় ৩৯.৮৪ শতাংশ।

রেলওয়ের তথ্য আরও জানাচ্ছে যে, প্রথম চার দিনের জন্য নির্ধারিত ৩,৭৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২,৫৬৪ জন উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন এবং তাঁদের মধ্যে ১,৫২১ জন সফল হন। এরপর পঞ্চম দিনে ২৫০ জন প্রার্থী পিইটি-তে অংশ নেন, যার মধ্যে ১৭২ জন উত্তীর্ণ হন। মূলত শুক্রবার বৃষ্টি বা অন্যান্য অনিবার্য কারণে যাদের পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে নেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

আর্দ্রতা ও গরমের জেরে চরম চ্যালেঞ্জ
পিইটি চলাকালীন মাঠের ভ্যাপসা গরম ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে বহু পরীক্ষার্থীকে মারাত্মকভাবে ভুগেতে হয়। ১,০০০ মিটারের কঠিন দৌড় শেষ করার পরেই অনেক পরীক্ষার্থীকে ক্লান্তিতে মাঠেই বসে পড়তে বা শুয়ে পড়তে দেখা গেছে। তবে আশার বিষয় হলো, পুরুষ প্রার্থীরা ৩৫ কিলোগ্রাম ওজন বহন করার কঠিন ধাপটিতে ভালো পারফর্ম করেছেন এবং বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীই ১০০-মিটারের এই দৌড়ে সফল হয়েছেন।

কী ছিল পিইটি পরীক্ষার মূল মাপকাঠি?
রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের জন্য শারীরিক সক্ষমতার আলাদা মাপকাঠি নির্ধারিত ছিল:

পুরুষ প্রার্থীরা: ৪ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে ১,০০০ মিটার (১ কিমি) দৌড় সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়াও, কাঁধে বা হাতে ৩৫ কিলোগ্রাম ওজন তুলে দুই মিনিটের মধ্যে ১০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।

মহিলা প্রার্থীরা: ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে ১,০০০ মিটার দৌড় শেষ করতে হবে এবং ২০ কিলোগ্রাম ওজন তুলে দুই মিনিটের মধ্যে ১০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য রেলের বিশেষ সুযোগ
এই পরীক্ষার মাঝে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনাও সামনে এসেছে। বিহারের এক গর্ভবতী মহিলা প্রার্থী এই পিইটি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন। তবে মেডিকেল ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তাঁর গর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর, রেলের চিকিৎসকরা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে আর দৌড় বা শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি। রেলওয়ের মানবিক ও সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের মহিলা প্রার্থীদের সন্তান প্রসবের ঠিক ছয় মাস পর পুনরায় পিইটি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে গর্ভাবস্থার কারণে তাঁদের সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে না যায়।

সব মিলিয়ে, ৩২,৪৩৮টি গ্রুপ ডি পদের এই তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কারা চূড়ান্ত সাফল্যের মুখ দেখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *