গোল্ড মেডেল জয়ী মূক ও বধির ছাত্রীকে লাগাতার যৌন নির্যাতন! স্কুল বাসের চালকের কুকীর্তিতে কাঁপল গ্রেটার নয়ডা

গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক থানা এলাকার একটি নামকরা বেসরকারি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ১৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছাত্রীর সঙ্গে নৃশংস ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠল এক স্কুল বাস চালকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ চার মাস ধরে এই জঘন্য কাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই চালক। বিশেষ দ্রষ্টব্য বিষয় হলো, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীটি একজন জাতীয় পর্যায়ের শুটিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী প্রতিভাবান খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত ছাত্রীর এক বন্ধু এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ এবং অভিযুক্ত বাস চালক লাভ কুশ যাদবকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, চালকের নিয়োগ সংক্রান্ত নথি এবং পুলিশি যাচাইয়ের বিবরণ চেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
প্রথম হেনস্থা মিরাটের শুটিং প্রতিযোগিতায়
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মেয়ে জন্ম থেকেই শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং নিয়মিত স্কুল বাসে যাতায়াত করত। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মিরাটে একটি শুটিং প্রতিযোগিতায় স্কুল দলের সঙ্গে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাস চালক প্রথমবার ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। মেয়েটি এর প্রতিবাদ জানালে, চালক তাকে শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই লাগাতার ভয়ভীতি প্রদর্শনের ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ছাত্রীটি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভয়ে বিষয়টি কাউকে বলতে পারেনি।
একা পেয়ে যৌন নির্যাতন ও শারীরিক অসুস্থতা
পরিবারের অভিযোগ, স্কুল বাস থেকে অন্য শিশুদের আগে নামিয়ে দিয়ে ওই ছাত্রীকে সবার শেষে একা পেয়ে নিয়মিত যৌন নির্যাতন চালাত অভিযুক্ত চালক লাভ কুশ যাদব। কখনো সে ছাত্রীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করত, কখনো ইশারা করে কাছে ডাকত, এমনকি একবার তার পা ধরে অত্যন্ত অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিও করে সে। এই ধারাবাহিক মানসিক ও শারীরিক উৎপীড়নের কারণে ধীরে ধীরে মারাত্মক মানসিক চাপে ভুঝতে শুরু করে নাবালিকা। কিছুদিন আগে তার স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হলে পরিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হয়।
বান্ধবীর চোখে ধরা পড়ে কুকীর্তি, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
গত ২৬ জুলাই অভিযুক্ত চালক যখন ফের একই কায়দায় ছাত্রীকে হয়রান করছিল, তখন তা দেখতে পায় ওই ছাত্রীর এক বান্ধবী। সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার কথা জানতে পেরে শোকে ও কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগীর পরিবার।
নলেজ পার্ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনোদ কুমার জানান, চালকের নিয়োগপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের পুলিশি যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। ঘটনার নিখুঁত সত্যতা যাচাই করতে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, তদন্তকারী দল স্কুলের শিক্ষক, অন্যান্য কর্মী, বাস স্টাফ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি রেকর্ড করছে। ছাত্রীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তাকে ইতিমধ্যেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।