অবশেষে মিটছে জট? কেএমসি এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় আপডেট দিলেন মলয় মুখোপাধ্যায়

দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং বিতর্কের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা DA) নিয়ে চর্চা আরও তুঙ্গে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো পঞ্চম পে কমিশনের মামলায় রাজ্য বকেয়া ডিএ মেটানোর পদক্ষপ করলেও, কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (KMC) এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে এখনও সেই বকেয়া টাকা ক্রেডিট হয়নি বলে অভিযোগ উঠছিল। তবে এবার এই বিষয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এসেছে।
কী জানালেন মলয় মুখোপাধ্যায়?
সম্প্রতি কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও টাকা না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখিয়ে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করেন।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আজ থেকে কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ব্যাঙ্কগুলো থেকে ক্রেডিট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।” একইসঙ্গে তিনি কলকাতা পৌর কর্পোরেশন এলাকার সমস্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের তাঁদের মোবাইলের ব্যাঙ্ক মেসেজের দিকে নজর রাখার পরামর্শও দিয়েছেন। মলয়বাবুর এই বার্তার পরেই বকেয়া টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
কর্মীদের একাংশের সংশয় ও অন্যান্য বকেয়ার প্রশ্ন
যদিও মলয়বাবুর এই পোস্টের পর অনেকের মনে স্বস্তি ফিরেছে, তবুও বহু কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাঁর ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে অনেকেই মন্তব্য করেছেন— ‘না আঁচলে বিশ্বাস নেই’। অর্থাৎ, বাস্তবে অ্যাকাউন্ট টাকা না ঢোকা পর্যন্ত তাঁরা পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না।
এর পাশাপাশি, গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং অন্যান্য বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। একদিন আগেই অন্য একটি পোস্টে মলয়বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, “০১/০৪/২৬ থেকে ৪% ডিএ অধরা। অথচ পুজোর আগে বেতনের সঙ্গে কুড়ি শতাংশ ডিএ—এই বার্তা আর কতবার শুনতে হবে?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, কেন গ্রান্ট-ইন-এইড এবং কেএমসি এলাকার অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকেও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা শোনা যাচ্ছে না। এর আগেও একাধিকবার এই নির্দিষ্ট দাবিগুলি জোরালোভাবে তুলেছিলেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, সত্যিই আজ থেকে কেএমসি এলাকার অবসরপ্রাপ্তদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়ার টাকা ক্রেডিট হওয়া শুরু হয় কি না।