বিদ্যুতের সমস্যা মেটাতে এবার ভরসা সৌরশক্তি! পিএম সূর্য ঘর যোজনা নিয়ে বড় পদক্ষেপ বিধায়ক রেখা পাত্রের

সুন্দরবনের বহু প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও বিদ্যুতের স্থায়ী সমস্যা ও লোডশেডিংয়ের জেরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবার সরাসরি আসরে নামলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র (Rekha Patra)। সুন্দরবনের বুকে সৌরশক্তির প্রসার বৃদ্ধি এবং কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ‘পিএম সূর্য ঘর যোজনা’ (PM Surya Ghar Yojana)-র সুবিধা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন তিনি।

হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
সম্প্রতি হিঙ্গলগঞ্জ বিডিও অফিসে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন বিধায়ক রেখা পাত্র। সুন্দরবনের অবহেলিত ও বিদ্যুৎহীন বা সমস্যাবহুল প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে সৌরশক্তির ব্যবহার কীভাবে আরও বাড়ানো যায় এবং সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ‘পিএম সূর্য ঘর যোজনা’-র সুফল পেতে পারেন, সে বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবদাস গাঙ্গুলি ও স্থানীয় বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বিধায়ক রেখা পাত্র জানান, “সুন্দরবনের অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। সেখানে সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব সবুজ শক্তির ব্যবহারও অনেক বাড়বে। তাই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বৈঠকে যে বিষয়গুলির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ: সুন্দরবনের দুর্গম ও নদীমাতৃক এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প মাধ্যম হিসেবে সৌরশক্তির পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

সচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রকল্পের সুবিধা ও উপযোগিতা সম্পর্কে প্রচার চালানো।

প্রশিক্ষণ ও সহায়তা শিবির: প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামে বিশেষ প্রচার, আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন এবং খুব সহজে সঠিক তথ্য পাওয়ার সুব্যবস্থা করা।

প্রশাসনিক সমন্বয়: বিদ্যুৎ দফতর, বিডিও অফিস এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আবেদনকারীদের দ্রুত ও যথাযথ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা।

প্রকল্প ও ভর্তুকির সুযোগ
সাধারণ মানুষ যাতে সমস্ত সরকারি নিয়মকানুন মেনে এই প্রকল্পের জন্য সহজে আবেদন করতে পারেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন, বৈঠকে সেই রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার দীর্ঘদিনের অন্ধকার ঘুচিয়ে ঘরে ঘরে আলো পৌঁছে দিতে হিঙ্গলগঞ্জ বিধায়কের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *