“জিভ কাটলেও কি দাঁত ভেঙে ফেলা যায়?” মায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের পরেও অভিযুক্তদের ক্ষমার ঘোষণা মোদীর!

সোশ্যাল মিডিয়ায় যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে কিছু তরুণ-তরুণীর করা অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। তবে আইনি পথে হেঁটে সেই তরুণদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন।

কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, যন্তর মন্তরে যা ঘটেছিল তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং গোটা দেশ তথা বিশ্ব তা দেখেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু আমিই নই, আমার প্রয়াত মা-ও অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষার শিকার হয়েছেন। এ ধরনের কুরুচিকর ভাষার কোনও সভ্য সমাজে স্থান নেই।” বিশেষ করে কিছু তরুণী ও যুবকের মুখে এহেন ভাষা শুনে যে সাধারণ মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা মর্মাহত হয়েছেন, তা স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, বয়সের চপলতায় তরুণরা ভুল করতেই পারে এবং তাদের কঠোর শাস্তি না দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা বেশি জরুরি। মোদী বলেন, “এই তরুণদের আপন করে নেওয়ার এবং সঠিক পথ দেখানোর এটাই সঠিক সময়। তারা বিপথে পরিচালিত হয়েছে। তাদের শাস্তি দেওয়া, বারবার আদালতে যেতে বাধ্য করা বা সামাজিকভাবে হেনস্থা করার মাধ্যমে কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজেরও আমার এই আবেদন গ্রহণ করা উচিত।”

দৃষ্টান্তমূলক উপমা ও দায়িত্ববোধের বার্তা
নিজের বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করতে একটি সুন্দর উপমা ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “অনেক সময় খাবার খাওয়ার সময় জিভ কামড়ে কেটে যায়, রক্তও বের হয়। কিন্তু তাই বলে কেউ নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না। কারণ জিভ এবং দাঁত—দুটোই নিজের অঙ্গ। একইভাবে, এই তরুণ-তরুণীরাও আমাদেরই সন্তান। তাদের ভুল শুধরে সঠিক পথে চালিত করাই আমাদের দায়িত্ব। বিপথগামীদের ফিরিয়ে আনা কঠিন কাজ, কিন্তু সেই কঠিন দায়িত্ব আমাদের সকলকে মিলে পালন করতে হবে।”

বার্তার শেষাংশে দেশের সমগ্র যুবসমাজকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নতুন করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি উজ্জ্বল ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *